মেহেন্দিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। গত ১৩ নভেম্বর ভোর রাতে গাছ কাটার ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাজিরহাট থানার রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে মৃত হাজী ফজলুল হক হাওলাদারের বেশকিছু পরিমাণ জমি রয়েছে। সেখানে রোপণ করা গাছগুলো দেখাশোনা করতেন ফজলুল হকের ছেলে নাসির উদ্দিন নসু। তিনি গত ৮ মার্চ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ফজলুল হকের অপরাপর ছেলেরা চাকরির সুবাদে অন্যান্য এলাকায় বসবাস করেন।
এ সুযোগে ওই জমির উপর দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় রতনপুর আলাবক্স নলীর ছেলে বিএনপি নেতা শাহাদাত নলীর। চলতি বছরের ১৩ নভেম্বর শাহাদাত নলীর লোকজন ফজলুল হকের ব্যক্তি মালিকানাধীন গাছ কাটা শুরু করেন। এসময় ২ লাখ টাকা মূল্যের ১১ টি মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরে ফজলুল হকের ছেলে আমজাদ হোসেন ৯৯৯ নাম্বারে কল করলে কাজিরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়।
এ ঘটনায় আমজাদ হোসেন ১৫ নভেম্বর বাদী হয়ে বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪, ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন (এমপি কেস নং ৪৬/২০২১)। এই মামলায় আদালত শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
একইসাথে আদালতে গাছ উদ্ধারের ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যুপূর্বক গাছ উদ্ধারের জন্য কাজিরহাট থানার পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার বাদী অভিযোগ করেন, রতনপুর গ্রামের শাহাদাত নলীর বাবার রাজাকার হিসেবে কুখ্যাতি ছিল। এছাড়া অপকর্মের দায়ে পাতারহাট কলেজ থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন বিএনপি নেতা শাহাদাত। এলাকার মানুষের কাছ থেকে ঘর, চাকরি, নলকূপসহ খাসজমি দেয়ার নামে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া শাহাদাত নলীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে ভূমিদস্যুতারও অভিযোগ করে আমজাদ হোসেন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত নলী বলেন, ১৯৬৩ সালে তার পিতার নামে ২ একর ২৪ শতাংশ দলিল হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে জমিবিক্রয়কারীরা ভারতে চলে যান। এ কারণে ভিপি সম্পত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন, ওই ভিপি সম্পত্তির মধ্যে ১৯ শতাংশ জমি ১৯৭৫ সালে মৃত হাজী ফজলুল হকের নামে দলিল হয়। এ অবস্থায় কিভাবে ভিপি সম্পত্তি ফজলুল হকের নামে দলিল হয় এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ওই জমির খাজনা পরিশোধ করে গেছেন তার বাবা। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলোর কোন ভিত্তি নাই।
এ বিষয়ে কাজিরহাট থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গাছ কাটার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা পেয়ে শনিবার (২০ নভেম্বর) কাটা গাছগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
এমবি