বরগুনায় রহস্যময় ভোটের ফলাফল, পুনরায় ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা

বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়নে রহস্যময় ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেছে উপজেলা নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শেষে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ঘোষণা করেন নৌকার প্রার্থী নাজমুল ইসলাম নাসির ও নৌকার বিদ্রোহী আনারশ প্রতীকের প্রার্থী এম এ বারী বাদল ৫ হাজার ৭ শত করে দুই জন সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকে ৫১০০ ভোট পেয়েছেন বলে জানানো হয়। এসময় নৌকার প্রার্থী আরও একটি ব্যালট বের করে বলেন, নৌকায় সিলমারা আরও একটি ব্যালট আমি একটি কেন্দ্রের বাইরে কুড়িয়ে পেয়েছি। নির্বাচন কমিশন কুড়িয়ে পাওয়া ব্যালট গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানালে নৌকার প্রার্থী সহ সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, আগামী একমাসের মধ্য ওই দুই প্রার্থীর মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণ হতে পারে, এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব না।
বিদ্যমান নির্বাচন কমিশন আইনে পুনরায় ভোট গণনার বিধান আছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুনরায় ভোট গ্রহণের সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পূর্বে মাত্র ৮৪ ভোটের ব্যবধানে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য এম এ বারী বাদল বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তখন জানা যায় তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ৭ শত ৮৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাজমুল ইসলাম নাসির নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৭ শত ভোট। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরোয়ার শাহিন ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ১৬ ভোট।
দিনভর প্রচণ্ড উত্তেজনা বিরাজ করলেও নির্বাচনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। দুপুরের পরে পরিরখাল কলেজ কেন্দ্রে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ শক্ত অবস্থান নেয়। ওই সময় পূর্ব বিরোধের জের ধরে স্থানীয় সাংবাদিক মুশফিক আরিফ সহ কয়েকজনের উপর নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা হামলার চালায়। তাদের বহনকারী ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রসংগত, ইউনিয়নে মোট ভোটার ২২ হাজার ৭১ জন। ভোট দিয়েছেন ১৬ হাজার ৬ শত ৬২ জন।
এমবি