স্বরূপকাঠিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেয়ার অভিযোগ

স্বরূপকাঠি সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক বেতন ও পরীক্ষার ফিস এর সাথে নানা ধরনের অংক জুরে সহাস্রাধিক টাকা বাড়তি আদায় করা হচ্ছে। মুদ্রন ফি, কল্যান তহবিল, কৃষিবাগান, রেড ক্রিসেন্ট ফি,চিকিৎসা ও বিবিধ চার্জসহ লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করার চাপ দিচ্ছে শিক্ষকরা। ১১ শ' শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক ২০ টাকা হারে বার্ষিক ২৪০ টাকা কম্পিউটার ফি ধার্য করার পাশাপাশি এক শত টাকা আইসিটি ফি যুক্ত করা হয়েছে। নানা ধরনের ফি যুক্ত করে ৬ষ্ট শ্রেনীর একজন শিক্ষার্থীকে দিতে হচ্ছে ১৮৩০ টাকা। অতিরিক্ত ফি দিতে গিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। চাপের মধ্যে রয়েছেন দরিদ্র শিক্ষার্থীরা।
জানাগেছে, স্বরূপকাঠি সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার আগ মুহুর্তে শ্রেনী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন ও পরীক্ষার ফিস আদায়ের জন্য শ্রেনী ওয়ারী মোট টাকার অংক জানিয়ে তা নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পরে এক সাথে এতগুলো টাকা চাওয়ায় অভিভাবকরা দৌড়ঝাপ শুরু করেন।
পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন প্রতিজন শিক্ষার্থীর মাসিক বেতনের সাথে মুদ্রন ফি ১৭৫ টাকা, কল্যান তহবিল ২৫ টাকা, কৃষিবাগান ৩০ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১০ টাকা,চিকিৎসা ফি ২০ টাকা, বিবিধ চার্জ ২শ‘ টাকা,কম্পিউটার ফি ২৪০ টাকা,আইসিটি ফি একশত টাকা,নৈশ প্রহরী,আয়ার জন্য ৩শ' টাকার সাথে কমনরুম,স্কাউট,মিলাদুন্নবী,পুজাসহ ৬ষ্ট শ্রেনীর একজন শিক্ষার্থীকে মোট ১৮৩০ টাকা দিতে হচ্ছে। ৭ম ও ৮ম শ্রেনীর জন্য ধার্য রয়েছে ১৮৫৪ টাকা। ৯ম ও ১০ম শ্রেনীর একজন শিক্ষার্থীর দিতে হচ্ছে ১৯৪০ টাকা। এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থীকে শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের ফি দিতে হয়েছে ১০৭০ টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন কল্যান ফি,বিবিধ চার্জ,কৃষি বাগানের নামে টাকা নেয়া হচ্ছে কার স্বার্থে। সরকারি বিদ্যালয় নৈশ প্রহরীর টাকা শিক্ষার্থীদের দিতে হবে কেন, এমন সব প্রশ্ন অভিভাবকদের।
এ বিষয় বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মোশারেফ হোসেনের বলেন, ফি ধার্য করার বিষয় তিনি অবগত নন। তিনি প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত ফি ধার্য করার বিষয় জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুল্লাহ হাওলাদার বলেন, সরকারি নির্দেশে এসব ফি ধার্য করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি ধার্য করায় তার কিছু করার নাই। সরকারি পরিপত্র দেখার কথা বললে প্রধান শিক্ষক বলেন অফিসের কাজে তিনি পিরোজপুরে আছেন বলে জানান। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক জানান ৬ষ্টশ্রেনী থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত ১০৪৩ জন এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী সহ ১১শ' সামথিং।
এইচকেআর