ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বাবুগঞ্জে সাপের কামড়ে মৃত্যু যুবককে জীবিত করতে ঝাঁড়ফুক জ্বালানি সংকটে বন্ধের মুখে ভোলার ১২ কারখানা মেহেন্দিগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শ্রেণীর পরীক্ষা, অভিভাবকদের ক্ষোভ মেহেন্দিগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সরকারি কবরস্থান পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান  ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ যাত্রীর সবাই নিহত রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা, পিএস জনি পুলিশ হেফাজতে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিলো যুক্তরাষ্ট্র  আইএমএফ ঋণের কিস্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ দৌলতখানে জ্বালানি তেল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ ভিক্ষুকের কাছে ১০০ টাকায় ওষুধ বিক্রি করায় বন্ধ করে দেয়া হলো ফার্মেসি
  • নলছিটি পৌরসভার পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘হুলিয়া’

    নলছিটি পৌরসভার পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘হুলিয়া’
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার পাঁচ কর্মচারীকে অন্যত্র বদলির জন্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছেন পৌর মেয়র। এ কর্মচারীরা স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র আবদুল ওয়াহেদ খান। মন্ত্রণালয়ের সচিকের কাছে তিনি গত ২৪ অক্টোবর এ আবেদনপত্র পাঠান।

    কর্মচারীরা হলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী ও কর আদায়কারী গোলাম মোস্তফা, বিল ক্লার্ক (পানি শাখা) মিরাজ হাসান প্রিন্স, নিন্মমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. কাউয়ুম হোসেন, ইলেট্রিশিয়ান সিরাজুল ইসলাম লিজন ও ক্যাশিয়ার রেখা বেগম। এদের মধ্যে ইলেকট্রিশিয়ান লিজন ও ক্যাশিয়ার রেখা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়।

    এদিকে পাঁচ কর্মচারীদের মধ্যে অন্য তিনজনকে কাউন্সিলররা পৌরসভায় আসতে নিষেধ করেছেন, তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা গত ২০ অক্টোবর থেকে একমাস ৭ দিনের ছুটি নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেই থেকে ১১ দিন অফিস করছেন না এ তিন কর্মচারী। এতে পৌরসভা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে, সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নাগরিকরা।

    জানা গেছে, নলছিটি পৌরসভায় দীর্ঘ দিন ধরে চাকরি করে আসছেন গোলাম মোস্তফা, মিরাজ হাসান প্রিন্স, মো. কাউয়ুম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম লিজন ও রেখা বেগম। এর মধ্যে ক্যাশিয়ার রেখা ও ইলেকট্রিশিয়ান লিজনের বিরুদ্ধে চার লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত ২৬ জুলাই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে পৌর মেয়র বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের ও তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেন। বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত আছেন। এর পর থেকেই শুরু হয় পৌরসভার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ‘হুলিয়া’।

     মোস্তফা, প্রিন্স ও কাউয়ুমকে পৌরসভায় আসতে নিষেধ করেন কাউন্সিলররা। ২০ অক্টোবর তাদের এক সপ্তাহের জন্য ছুটি নিতে বাধ্য করা হয়। পৌর মেয়র তাদের ছুটি প্রদান করেন। এই এক সপ্তাহ পার হতেই আবারো তাদের এক মাসের ছুটি নিতে বলা হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসক তাদের বিশ্রামে থাকতে বলেছেন দেখিয়ে, তাঁরা তিনজনই গত ২৭ অক্টোবর আবারো এক মাসের ছুটি নেন। এমনকি ছুটিতে থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউন্সিলররা দাপ্তরিক চাবি নিয়ে আসেন।

    এর পর থেকেই পৌরসভার দাপ্তরিক কাজ থমকে যায়। কর নির্ধারণ, কর আদায়, নকশা ও প্লান কার্যক্রম, ওয়ারিশ, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, পানি শাখার বিল প্রদান ও কমিম্পিউটারের যাবতীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরসভার বাসিন্দারা। নাগরিক সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। পৌরসভার এ কর্মচারীরা জানান, পৌর মেয়র তাদের তিন কর্মচারীকে ছুটি প্রদান করেছেন।

     ছুটির মেয়াদ শেষ না হতেই তিনি গত ২৪ অক্টোর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুজনসহ পাঁচজনকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করেছেন মন্ত্রণালয়ে। পাশাপাশি পৌরসভার ২৫৮/২১ নম্বর স্মারকে তাদের পদশূন্য ঘোষণা করে, নতুন নিয়োগের জন্যও আবেদন করেন। এ খবর শুনে হতাশ হয়ে পড়েন পৌরসভার পাঁচ কর্মচারী। বর্তমানে তাঁরা দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী ও কর আদায়কারী গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি ২৪ বছর ধরে পৌরসভায় চাকরি করি, আমাদের নামে কোন অভিযোগ নেই। কোন কারন দর্শানো নোটিশ নেই, তার পরেও আমাদের তিনজনকে এক মাস সাত দিনের ছুটি দিয়েছে মেয়র। আবার তিনিই আমাদের পদশূন্য করেছেন। কয়েকজন কাউন্সিলরের পরামর্শে আমাদের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে।

    বিল ক্লার্ক (পানি শাখা) মিরাজ হাসান প্রিন্স বলেন, আমাদের ছুটি দিয়েছে, আবার বাড়িতে গিয়ে চাবিও নিয়ে এসেছেন কাউন্সিলররা। আমাদের ওপর নানা ধরনের হুলিয়া চলছে। এ অবস্থায় আমাদের অন্যত্র বদলি করা হলেও আপত্তি নেই।

    পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুন মাহমুদ বলেন, যে সকল কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা নিজেরাই চাবি বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেছেন। আমরা শূন্যপদে নতুন করে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।

    এ ব্যাপারে নলছিটি পৌরসভার মেয়র আবদুল ওয়াহেদ খান বলেন, আমরা শূন্যপদে নতুন নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এখন পাঁচ কর্মচারী না থাকায় পৌরসভার কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। শূন্যপদে নিয়োগ হলে সমস্যা থাকবে না।

     


    এমবি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ