ঢাকা শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • ঝালকাঠিতে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু ঈদে পরিবহন বাড়তি ভাড়া নিলে সেই পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল হবে: মন্ত্রী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, কমলো ৫০ শতাংশ লাইট-এসি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস, চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি ধারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আটক বঙ্গোপসাগরে জেলেদের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৪, নিখোঁজ ২ পবিপ্রবিতে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, আহত ২০ জিয়াউল আহসানের বোন আইনজীবী নাজনীন নাহারের ব্যাংক হিসাব তলব উজিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ফায়ার ফাইটারের ২৪ দিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ থাকবে শ্রেণি কার্যক্রম
  • সড়কে আহত পথশিশুকে কাঁধে ভর দিয়ে হাসপাতালে নিলো দুই পথশিশু

    সড়কে আহত পথশিশুকে কাঁধে ভর দিয়ে হাসপাতালে নিলো দুই পথশিশু
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন


    তিনজনই শিশু, তাদের বয়স হবে ৯ থেকে ১১ বছর। এক সাথেই প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মানুষের কাছ থেকে চেয়ে চেয়ে খায়।

    ঝুপরি ঘর থাকলেও তারা পথে পথে ঘোরে।

    তাদের মধ্যে মোশারফ নামে একজন প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আহত হয়। এতে তার চোখের কোন থেকে মাথা পর্যন্ত অনেকটা অংশ কেটে যায়। ঘটনার সময় প্রতিদিনের মতো সঙ্গেই ছিলো রহিম ও জয়। মোশারফের এমন অবস্থা দেখে তারা একা ফেলে পালিয়ে যায়নি। দুই শিশু তাকে কাঁধে ভর করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।

    রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা যায়, দুই শিশুর কাঁধে ভর দিয়ে আহত মোশারফ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রবেশ করছে।

    তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবার বাসা রাজধানীর রায়েরবাজার আজিজ খান রোড এলাকায়। তিনজনই ঠিকমত কথা বলতে পারছে না। এক পর্যায়ে আহত মোশারফের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা নেই, মা আছেন। ওই এলাকার একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকে তারা। তার বন্ধু অপর দুই শিশুও একই এলাকায় থাকে। বিকেলে ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ মেডিক্যালের সামনে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আহত হয় মোশারফ। প্রথমে দুই শিশু সঙ্গীর সহযোগিতায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসে তারা।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে নিয়ম অনুযায়ী একটি টিকিট কাটে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের নির্দেশক্রমে তৃতীয় তলায় চক্ষু বিভাগে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত  এক নার্স জানান, শিশুটির চোখ থেকে কপাল হয়ে মাথা পর্যন্ত অনেক অংশ কেটে গেছে। আগে নিউরোসার্জারির বিভাগের চিকিৎসা দরকার। এ কথা শুনে আবারও দুই শিশুসঙ্গীর কাঁধে ভর দিয়ে নিচতলায় নিউরোসার্জারি বিভাগে যায় মোশারফ।

    পরে নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে দ্রুত সিটি স্ক্যান করার জন্য ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন। একপর্যায়ে শিশুটির সিটিস্ক্যান করা হয়। সিটিস্ক্যানের ফিল্ম দেখে চিকিৎসক জানান, মোশারফের মাথায় তেমন কোনো সমস্যা নেই। ভালো আছে, এখন চক্ষু বিভাগ গেলেই চলবে।

    হাসপাতালেই অবস্থানরত হেলথ ফর ইউ নামে একটি প্রতিষ্ঠান আহত মোশারফের চিকিৎসার সহযোগিতা করে। সিটিস্ক্যান করাতে সরকারের চার্জ অনুযায়ী টাকাসহ হাসপাতালে রোগিকে নিয়ে এদিক সেদিক দৌঁড়াদৌঁড়িতে তারা সহযোগিতা করেন।

    ওই প্রতিষ্ঠানের রায়হান নামে এক ব্যক্তি জানান, ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা সিটিস্ক্যান দেখে বলেছে তার মাথায় গুরুতর সমস্যা নেই, চক্ষু বিভাগে দেখালেই হবে। তাই শিশুটিকে  শ্যামলী চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা হাসপাতলে এসেছিলাম একটা কাজে, সেখানে আহত পথশিশু মোশারফকে  দেখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি, আর কিছুই নয়।


    এসএম
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ