ফলজ-বনজ বৃক্ষে বরিশালকে সবুজ বেষ্টনীতে আচ্ছাদিত করা হবে: বিভাগীয় কমিশনার

অতীতে অযাচিতভাবে আনাচে-কানাচে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনির মতো পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ গাছ লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেছেন, এসব গাছে পাখি পর্যন্ত বসে না। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের আমড়া, নারকেল ও নিমসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। বিভিন্ন প্রজাতির এসব গাছের মাধ্যমে পুরো বরিশালকে একটি সবুজ বেষ্টনীতে আচ্ছাদিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের কড়াপুর পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ৫০ হাজার চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ‘সবুজের মাধ্যমে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তা বরিশালেও বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে ফলজ বৃক্ষ রোপণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা হবে। নারকেল, আমড়া ও পেয়ারার মতো ফলজ বৃক্ষ বেশি পরিমাণে রোপণ করা গেলে বিদেশি ফলের আমদানি কমে যাবে এবং দেশীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নুরুল আমীন। আলোচনা শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন গাছের চারা তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদা সুলতানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।
চারা বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আয়োজকরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বরিশালকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তোলাই এ ধরনের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
এদিকে, এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর বেলস পার্ক সংলগ্ন বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবনের সামনেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এইচকেআর