বাবুগঞ্জে ২৩শ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করলো এনএসআই

পিকআপের পিছু নিয়ে মজুদের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া ২৩শ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সদস্যরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠান মালিককে জরিমানা করা হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। একই দিন বরিশাল জেলা এনএসআই’র তথ্যের ভিত্তিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার মোট তিনটি স্পটে অভিযান চালিয়ে মজুদ করা জ্বালানি ও ভোজ্য তেল এবং এলপি গ্যাস উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন।
পরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি তেল, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার এবং ভোজ্য তেলের অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে ৮৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
এনএসআই’র একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বুধবার বিকেলে বরিশাল থেকে মিনি পিকআপে কয়েকটি ড্রামে জ্বালানি তেল নিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই পিকআপের পিছু নেয় এনএসআই টিম।
পরে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া এলাকায় ২৩শ লিটার জ্বালানি তেলসহ পিকআপটি আটক করে উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্টে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে ১৬শ লিটার ডিজেল, ৬০০ লিটার পেট্রোল এবং একশ লিটার অকটেন ছিল।
অন্যদিকে একই ইউনিয়নের নতুনহাট এলাকায় বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার নেতৃত্বে এসএ কর্পোরেশন নামক একটি গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে এনএসআই। এসময় গোডাউনে অবৈধভাবে মজুদ করা গ্যাসভর্তি ৪০০ এলপিজি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। গোডাউনে আরও ১২০০ খালি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এলপিজি মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন স্থানীয় ডিলার আসিফ ইকবাল।
এছাড়া একই উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের এসএম ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে অবৈধবাবে মজুদ করা তিন হাজার লিটার ভোজ্য তেল উদ্ধার করে এনএসআই টিম। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ডিলার এসএম মাহবুব আলমকে কৃষি বিপণন আইনে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
এর আগে রাকুদিয়া ডিজেল জমুদের অভিযোগে ডিলার মনির সরদারকে ১০ হাজার এবং নতুন হাটের এলপিজি ডিলার আসিফ ইকবালকে ৫০ হাজার টাকাসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়।
তথ্য নিশ্চিত করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, ‘এনএসআই’ তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে জ্বালানি, ভোজ্য এবং এলপিজি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সহযোগিতা করে স্থানীয় থানা পুলিশ। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেন তিনি।
এইচকেআর