ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • র‍্যাব-৮'র সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদুর বরখাস্ত প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমগতের বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক ক্যাম্প  জিয়াউর রহমান হত্যায় পলাতক আসামি মেজর মোজাফফর আটক বানারীপাড়ায় জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি  বরিশালে ১১দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে: হেলাল বরিশালে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ২১  বরিশালে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা বাবুগঞ্জের ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন ছাত্রদল নেতা মাহফুজুল আলম মিঠু  পাথরঘাটায় বলেশ্বর নদীতে ৯ যাত্রী নিয়ে বন বিভাগের ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ১ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বরিশালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
  • কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে  ‌‌‌‌'নীল নাচ'

    কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে  ‌‌‌‌'নীল নাচ'
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    নীল নাচ ও পূজা ঠিক আগের মতো যত্রতত্র দেখা মিলছে না। চৈত্র মাসের শেষের দিকে প্রত্যন্ত গ্রাম বাংলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়ির উঠোন কিংবা হাটবাজারে দেখা মিলছে ‘নীল নাচের দল’র নৃত্য পরিবেশনা। যদিও কালের পরিক্রমায় এ দলগুলো অনেক ছোট হয়ে এসেছে। 
     
    হিন্দু ধর্মের পৌরাণিক ধর্ম মতে, দেবতা শিব সমুদ্র মন্থনে বিষপান করে নীল কণ্ঠ ধারণ করেছিল। আবার বৈদিক হিন্দু ধর্ম মতে, সূর্য অস্ত গেলে চারিধার গাঢ় অন্ধকার হয়ে আসে। গাঢ় অন্ধকার নীল বর্ণের হয়। এখানে বছরের আয়ূষ্কাল শেষ হওয়ার প্রতীকী হল এই নীল। চৈত্র সংক্রান্তির দিনে নীল পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সনাতনীদের শাস্ত্রীয় মতে, পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরে সংকট কেটে সুখ ও সমৃদ্ধির আশায় শিবের আরাধনা বা শিবের গাজন অনুষ্ঠিত হয়। চৈত্র শেষে শিবের গাজন উৎসবই হল নীল পূজা।

    প্রাচীন কাল  বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় চৈত্র মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে চৈত্র সংক্রান্তির দিন পূজার মধ্যে সমাপ্তি ঘটতো। এ সময়টাতে গ্রামের বাড়িতে ‘নীল নাচ’ দেখা মিলতো।  প্রতিটি নীল নাচের দলে ১০/১২ জনের রাধা, কৃষ্ণ, শিব, পার্বতী, নারদসহ সাধু পাগল (ভাংরা) সেজে সকাল থেকে মধ্য রাত অবধি নীল নাচ গান পরিবেশন করেন। 

    গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে দারুণ উপভোগ্য এই নীল নাচ। নীল নাচ দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ জড়ো হতো। বিনোদনের এবং ধর্মীয় হিসেবে মনের যথাযথ চাহিদা মিটতো। চৈত্র সংক্রান্তি মেলার শেষ দিনে নীল পূজার মধ্য দিয়ে শেষ হতো এ নীল নাচ। নীল পূজার জন্য নীল নাচের দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল আর নগদ অর্থ সংগ্রহ করে। নীল পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ( হিন্দু) ধর্মীয় উৎসব হলেও চৈত্র সংক্রান্তির উৎসব এক সময়  তা সার্বজনীন এক উৎসবে পরিণত হয়।


    এ বিষয় নীল নাচের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী সদানন্দ দেবনাথ জানান,'  নীল নাচের শিল্পীদের সংগ্রহ করতে যে পরিমান টাকা খরচ হয় তা  কাটিয়ে উঠা সম্ভব না। ফলে বন্ধ করে দিয়েছি নীল নাচ। '
     
    এ নীল নাচের দলের শিল্পী  রমেশ দাস জানান,  চৈত্র মাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহ ধরে ১২ /১৫ সদস্যের নীল দল  গ্রামাঞ্চলে নাচ গান করে মানুষের মনোরঞ্জন করে।  নীল পূজা কমে যাচ্ছে। সেই সাথে নীল দলের নাচও তেমন আর দেখা মিলছে না। ঐতিহ্যের এ নীল নাচ ও পূজা ক্রমেই বিলপ্তির দিকে যাচ্ছে।
     


    টিএইচএ/
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ