৭৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পে সচল হবে ঐতিহ্যের খাল

হারাতে বসা বরিশালের ইতিহাস-ঐতিহ্যের খালগুলোর জৌলুশ ফেরাতে ৭৬৮ কোটি ৪০ লাখ ৮ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পের আওতায় বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এলাকায় ২০টি খাল খনন এবং ১০টি খালের সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছেন। সম্প্রতি সময়ে বরিশাল নগরীর খাল পুনঃখনন, পনরুদ্ধার এবং সৌযন্দর্যবর্ধণে এটিই সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রথম প্রকল্প। তাই প্রকল্প অনুমোদনের খবরে আনন্দ, উৎসহ-উদ্দিপনা বিরাজ করছে নগরবাসীর মাঝে।
খাল খনন এবং সৌন্দর্যবর্ধণ প্রকল্প অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর যুগোপযোগী দাবি করে তাঁর প্রতি বরিশাল নগরবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই বরাদ্দে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে হারাতে বসা বরিশালের ইতিহাস ঐতিহ্যের খাল পুনরুদ্ধার, পুনঃখনন এবং খালপাড় সংরক্ষণের মাধ্যমে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত দাবি পুরণের কথা জানিয়েছেন প্রশাসন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল জানান, দুইশ বছর আগের জরিপ অনুযায়ী বরিশালে একসময় ২০০ খাল ছিল। তার মধ্যে থেকে এখন বর্তমান নগরীতে ৪৭টি খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, এর মধ্যে থেকে ৩০টি খাল পুনরুদ্ধার, পুনঃখনন এবং সৌন্দর্যবর্ধণ করা হবে। যেসব খালের পাশে জায়গা আছে বা অধিগ্রহণ করা যাবে সেসব খালের তীরে সাইকেল লেনসহ সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে।
খালখনন এবং সৌন্দর্যবর্ধণের ডিপিপি প্রস্তুতকারী বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মুকসুমুল হাকিম রেজা জানান, অনুমোদন হওয়া প্রকল্পটি প্রথম পর্যায়ের। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৭৬ কিলোমিটার খাল পুনরুদ্ধার, পুনঃখনন, তীর সংরক্ষণ এবং সৌন্দর্যবর্ধণ করা হবে। যার মধ্যে লাকুটিয়া খাল, ভেদুরিয়া খাল, নথুল্লাবাদ খাল, শোনামিয়ার পুল থেকে কালিজিরা পর্যন্ত খাল এবং বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উত্তরপাড়ের খালটি উল্লেখযোগ্য।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বৃদ্ধিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি বরিশালকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বরিশালবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ও নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
উল্লেখ্য, বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বরিশালে খালখনন এবং সৌন্দর্যবর্ধণ ছাড়াও মোট ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১১টি নতুন প্রকল্প এবং দুটি সংশোধিত।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত ও অপারেশনাল যানবাহন কেনা, বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ, পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি কূপ খনন প্রকল্প রয়েছে।
এইচকেআর