ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশালে বছরে উৎপাদন ১ লাখ ৮ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন সুপারি বরিশাল সেনানিবাস সম্প্রসারণে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্প গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা  পিরোজপুরে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নেমে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু, সহযোগী হাসপাতালে পটুয়াখালীতে তরুণীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে বিএনপি নেতা আটক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পবিস জিএম বরিশালে  বিএনপি নেতার ছেলেকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো, জেলা ডিবির দুই সদস্যর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ  মৃত্যুর তিনদিন পর পাওনা বুঝে পেল সাংবাদিক পুলকের পরিবার দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ বরিশাল, কর্মসংস্থানের অভাবে ঢাকামুখী হচ্ছে মানুষ বরিশালে তালাবদ্ধ বাসা থেকে মুহুরির মরদেহ উদ্ধার
  • বিএনপি নেতার ছেলেকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো, জেলা ডিবির দুই সদস্যর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ 

    বিএনপি নেতার ছেলেকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো, জেলা ডিবির দুই সদস্যর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ 
    ছবি: প্রতীকী
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    মাদক বিরোধী অভিযানে নিরীহ মানুষকে আটক করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়, টাকা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে। তাদের ‘আটক বাণিজ্যের’ প্রতিবাদ করায় খোদ ওয়ার্ড বিএনপি নেতার ছেলেকে ১০১ পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়েছেন।

    ওই যুবককে তার বাড়ি থেকে তুলে নিলেও সাড়ে ৫ কিলোমিটার দূরে ঘটনাস্থল দেখিয়ে মামলার আসামি করা হয়েছে। একই সাথে ওই এলাকার ব্যবসায়ী, খামারিদের কাছে মাসিক চাঁদা দাবি করে আসছেন অন্যথায় অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে পুলিশ সদস্যরা।

    আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ড মোল্লাপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী জাফর হাওলাদার।

    লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশের এসআই আফজাল, এএসআই রাজিব পালের নেতৃত্বে মোল্লাপাড়া ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। তাদের এসব কাজে সহায়তা করে আসছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নয়ন ঢালী ও ভদ্রপাড়া এলাকার সাহিন সরদার। এই ২ মাদক কারবারিকে ‘সোর্স’ হিসেবে ব্যবহার করে ডিবি পুলিশের সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনই সাদা পোশাকে গ্রামে ঢুকে বিভিন্নজনকে আটক করে এবং টাকার বিনমিয়ে ছেড়ে দেয়। তারই ধারাবাজিকতায় গত ১১ আগস্ট রাতে মোল্লাপাড়ায় জাফর হাওলাদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ছেলে নাদিম, প্রতিবেশী সাব্বির ও সোহাগকে আটক করে। তার আগে একই এলাকার সাহেবের হাট বাজার থেকে নয়ণ ঢালী ও সাহিন সরদারকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে জাফর হাওলাদারের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এই ৫ জনের মধ্যে জাফর হাওলাদারের ছেলে নাদিমকে ছাড়তে ২ লাখ ও অন্যদের প্রত্যেকজনের কাছে ৩০ হাজার করে টাকা দাবি করে।

    পুলিশের সোর্স নয়ন ঢালী বলেন, ওইদিন কারো কাছেই কিছুই পায়নি। আমাকে সাহেবের হাট থেকে আর সাহিন সরদারকে ভদ্রপাড়া থেকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মোল্লাপাড়া জাফর হাওলাদারের বাড়িতে নিয়ে আসে। আমার পকেট থেকে ১২ হাজার টাকা ডিবি পুলিশই নিয়ে যায়। পরে আরও দুই হাজার টাকা বিকাশে পাঠাই। তিনি বলেন, নাদিমকে ১০১ পিস ইয়াবাসহ চালান দেয়া হলেও আটকের সময় তার কাছে কিছু পেতে দেখিনি।

    ওই ঘটনায় বদলে ফেলা হয়েছে ঘটনাস্থল উল্লেখ করে মামলার এক নম্বর সাক্ষী লাল মিয়া বলেন, রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরছিলাম। জাফর ভাইদের বাড়ির সামনে লোকজন দেখে কৌতুহলে এগিয়ে গিয়ে দেখি নাদিমসহ ৫ জনকে আটক করে রেখেছে। পরে আমরা ৪ জনকে ছাড়িয়ে রাখি। সাহিন সরদার আর নয়ন ঢালী কত দিয়েছে জানি না তবে সাব্বির আর সোহাগের পরিবার ধার করে ৩০ হাজার টাকা করে দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে রাখে।

    তিনি বলেন, আমাদের ডিবি পুলিশ জানিয়েছে মুরগী খামারি কাওছারকে ধরতে এসেছেন। কিন্তু তাকে নাদিম চেনে বলে নাদিমকে আটক করে নেয়া হচ্ছে। ওই রাতে এটুকুই দেখেছি। পরে জানি আমিও মামলার সাক্ষী।

    লাল মিয়া আরও বলেন, সেই রাতে মোল্লাপাড়া থেকে নাদিমকে ধরে নিয়ে যায়। অথচ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া থেকে ধরা হয়েছে। দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব সাড়ে ৫ কিলোমিটার। ওই মামলায় গৌরনদীর আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমি বুঝি না দুটি ঘটনা, দুটি অভিযান অথচ মামলায় এক করা হলো কিভাবে।

    মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা কাওছার হোসেন বলেন, ডিবি পুলিশ মোবাইলে কল করে প্রতি মাসে টাকা নেন। টাকা না দিলে আমাকে অস্ত্র আর মাদক দিয়ে ফাঁসাবেন বলে সরাসরি জানান।

    কাওছার বলেন, আমার ঘরের বটি, গোসল করার সাবান, গাছের কলাও ডিবি পরিচয়ে নিয়ে গেছে। এখন আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি, আমাকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসাবেন বলে ডিবি পুলিশ সদস্যই কল করে জানিয়েছেন। এর আগে আমার ভাইয়ের ছেলে নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। সে এখন জেলে। সেই রাতে আমাদের কাছে ২ লাখ টাকা চায় এসআই আফজাল ও তার টিম। আমরা দিতে পারিনি দেখে ওকে চালান দিয়ে দেয়।

    ভূক্তভোগী জাফর হাওলাদার বলেন, আমার ২ ছেলেকে ধরেছিল। এক ছেলে হৃদরোগ আক্রান্ত হওয়ায় তাকে ছেড়ে দিয়ে যায়। তবে নাদিমকে নিয়ে যায়। এসআই আফজাল ২ লাখ টাকা চায়। আমি দিতে অস্বীকার করলে তাকে ১০১ পিস ইয়াবা রিকভারি দেখিয়ে মাহিলাড়ার একটি মামলায় চালান দিয়েছে। আমার ছেলেকে আমার বাড়ি থেকে তুলে নিলেও মাহিলাড়ায় রিকভারি দেখিয়েছে।

    তিনি বলেন, ডিবি পুলিশের হয়রানিতে আমাদের পুরো গ্রাম মানুষ শূণ্য। প্রতি রাতে এসে ধরা-ছাড়ার বানিজ্য করছে। আমি এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছি। ডিআইজির কাছে অভিযোগ দিয়েছি। তাতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মামলায় ফাঁসাতে হুমকি দিচ্ছে।

    এসব বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই আফজালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগৈলঝাড়ার মোল্লাপাড়ার ওই ঘটনার বিষয়ে আমি উর্ধ্বতনদের অনুমতি ছাড়া কোন কথা বলতে পারবো না।

    রেঞ্জ ডিআইজি জুলফিকার আলী হয়দার বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলাটি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। এক স্থান থেকে আটক অথচ মামলায় অন্য স্থান দেখানো সম্ভব না।

    তিনি আরও বলেন, আমার পুলিশ সদস্য যদি কোন অপেশাদারী আচরণের সাথে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ