ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলেকান্দা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে স্মরণসভা ও দোয়া  র‍্যাব-৮'র সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদুর বরখাস্ত প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমগতের বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক ক্যাম্প  জিয়াউর রহমান হত্যায় পলাতক আসামি মেজর মোজাফফর আটক বানারীপাড়ায় জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি  বরিশালে ১১দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে: হেলাল বরিশালে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ২১  বরিশালে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা বাবুগঞ্জের ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন ছাত্রদল নেতা মাহফুজুল আলম মিঠু  পাথরঘাটায় বলেশ্বর নদীতে ৯ যাত্রী নিয়ে বন বিভাগের ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ১
  • পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেলো

    পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেলো
    মিটফোর্ড হাসপাতাল চত্বরেই ঘটে নির্মম এই ঘটনা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    স্থান পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল চত্বর। বুধবার (৯ জুলাই) বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা। হঠাৎ হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় ঘটে যায় এক ভয়াবহ ঘটনা। শতাধিক লোকের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, পিটিয়ে ও পাথর ছুড়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহের ওপর চলে নৃশংস উন্মত্ততা।

    এ হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্য ধরা পড়ে সিসিটিভি ফুটেজে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সোহাগকে প্রথমে নির্মমভাবে মারধর করে, পরে কুপিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর দুই যুবক তার নিথর দেহ রাস্তায় টেনে নিয়ে এসে একের পর এক লাথি, ঘুষি ও বুকের ওপর লাফিয়ে বর্বরতা চালায়। পরে তার মাথা ও শরীরের ওপর ছোড়া হয় বড় বড় পাথর।


    ঘটনার সময় শত শত মানুষ আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরাও নীরব ছিলেন। আতঙ্কে সবাই নৃশংস দৃশ্য দেখলেও কেউ বাধা দেয়নি।

    নিহতের পরিবার দাবি করেছে, সোহাগকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার দোকান থেকে ডেকে নেওয়া হয়। প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ তার ব্যবসায় আধিপত্য চাচ্ছিল এবং নিয়মিত চাঁদা দাবি করছিল। সোহাগ রাজি না হওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

    পারিবারিক সূত্র জানায়, সোহাগ পুরান ঢাকায় পুরাতন বৈদ্যুতিক তার ও ভাঙারির ব্যবসা করতেন। ওই এলাকায় ভাঙারি ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন সোহাগ। সেই সিন্ডিকেটের অংশীদার হতে চেয়েছিল মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটু। বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে মনে করছে পরিবার।

    এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন মাহমুদুল হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির, নান্নু, রিয়াদ, টিটন গাজী ও লাকী। ইতোমধ্যে র‌্যাব ও পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিও দেখে আমরা শিউরে উঠেছি। এ ধরনের উগ্রতা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।’

    নিহতের পরিবার জানায়, ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্ত টিটু সোহাগের বাসায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনার আশ্বাস দিয়ে তাকে বাইরে নিয়ে যান। এরপরই ঘটে মর্মান্তিক এ ঘটনা।

    এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নাগরিক সমাজের মতে, প্রকাশ্যে এমন নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত না হলে সামাজিক নিরাপত্তা আরও দুর্বল হবে।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ