ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল অঞ্চলের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন নুরুল আমিন  বিধবা নারীকে ধর্ষণ-গর্ভপাত, পটুয়াখালীতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা বরিশালের আটঘর কুড়িয়ানায় প্রতি মৌসুমে ডিঙ্গি নৌকায় ২০ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি বরিশালে ৬৬ হাজার টন বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের প্রকল্পটি ৮৫ ভাগ সম্পন্ন  সমুদ্রে ঝড় থেকে জেলেদের রক্ষায় ওয়াকিটকি ও মোবাইল ফোন দেওয়া হবে: বিভাগীয় কমিশনার  বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য এনসিপির গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত অনেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএম কলেজ অধ্যক্ষ  জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা
  • বরিশাল সিটি কর্পোরেশন

    উন্নয়ন বঞ্চিত ১২ নম্বর ওয়ার্ড, ১৩ নম্বরে কাজ হয়েছে ‍আংশিক

    উন্নয়ন বঞ্চিত ১২ নম্বর ওয়ার্ড, ১৩ নম্বরে কাজ হয়েছে ‍আংশিক
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের অন্য ওয়ার্ডগুলোর ন্যায় ১২ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড দুটিতেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, ঘনবসতি এবং ভিআইপি কলোনী সমন্বিত ওয়ার্ড দুটির অধিকাংশ রাস্তাঘাট এখনো অনুন্নত রয়ে গেছে

    বিশেষ করে ১২ নম্বর ওয়ার্ডটি গত পাঁচ বছরে একেবারেই উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার বলে দাবি ওয়ার্ডবাসীর। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ ঘরানার হলেও বর্তমান মেয়রের বিরোধী শিবিরের লোক হওয়ায় উন্নয়ন বঞ্চিত ওয়ার্ডটি। মাত্র দুটি সড়ক ছাড়া আর কোথাও কোন উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি ওয়ার্ডবাসীর।

    জানা গেছে, নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দা, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস, সাগরদী ওয়াপদা কলোনী, চরের বাড়ি, বিআইপি কলোনী এবং খ্রিস্টান কলোনী নিয়ে গঠিত ১২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ছয় হাজার মানুষের বসবাস। ০ দশমিক ৪৮ বর্গ কিলোমিটারের এই ওয়ার্ডটিতে এবারের ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ১৭৮ জন।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন বধ্যভূমি এলাকায় খ্রিস্টান কলোনীতে প্রবেশের একমাত্র সড়কটি দীর্ঘ বছর ধরে অনুন্নত। সড়কটির পাথর উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির শেষ প্রান্তে সিটির সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের একটি বাগান বাড়ি রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই সড়কটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বলে দাবি খ্রিস্টান কলোনীর মানুষের।

    খ্রিস্টান কলোনীর বাসিন্দা কয়েকজন নারী নিজেদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কলোনীর অভ্যন্তরে আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বহুবছর আগে। তবে কলোনীর মধ্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা অপ্রতুল। এখানে পর্যাপ্ত টিউবওয়েল নেই। কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে থাকতে হয় কলোনীবাসীকে।

    ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন ভুলু বলেন, ‘একজন কাউন্সিলরের কাছে ওয়ার্ডবাসী বা জনগণের দুটি প্রত্যাশা থাকে। একটি হলো নাগরিক সনদ প্রদান, বিচার সালিশ ও সরকারি তহবিল বা সুযোগ সুবিধার সুষ্ঠু বন্টন। অপরটা এলাকার উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করা।

    প্রথমটা কাউন্সিলরের দক্ষতা এবং জনগণের সাথে সুসম্পর্কের ওপর নির্ভর করে। আমি মনে করি জনগণের সাথে আমার যে সম্পর্ক সেখানে আমি শতভাগ সফল হয়েছি। তবে দ্বিতীয় যে প্রত্যাশা ছিলো সেটা নির্ভর করে সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ এবং মেয়রের সদিচ্ছার ওপর।

    তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের প্রশ্ন যদি ওঠে তবে বলবো, আমার পক্ষে তেমন কিছুই করা সম্ভব হয়নি। কারণ আমি ওয়ার্ড কাউন্সিলর হলেও কোন কাজে আমাকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। মেয়র মহোদয়ের নিজস্ব একটি বাহিনী ছিলো। তাদের দিয়েই তিনি কাজ করিয়েছেন। এজন্য আমার ওয়ার্ড উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে।

    যদিও তিনি স্বীকার করে বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের মধ্যে তেমন অলিগলি নেই। ত্রিশগোডাউন সংলগ্ন যে সড়কটি আছে সেটি উন্নয়ন হয়েছে অনেক আগেই। তবে অলিগলির কিছু রাস্তা, ড্রেন, পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে, যেগুলো মেয়রের সহযোগিতা না থাকায় সমাধান করতে পারিনি।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘১২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে অবস্থিত বধ্যভূমি সংলগ্ন কীর্তনখোলা তীরের ভ্রমণ কেন্দ্র। কীর্তনখোলা তীর দখল করে আছে ভ্রাম্যমাণ হকাররা। ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কীর্তনখোলা নদীতে। এতে নদী দূষণ বাড়ছে জানিয়ে ভ্রমণে আসা মানুষ বলেন, ‘ভ্রমণস্পট ঘিরে কিশোর অপরাধিদের আনাগোনা বেড়েছে। ইভটিজিং এবং মাদকের বিস্তারও ঘটছে বধ্যভূমির এই বিনোদনকেন্দ্র ঘিরে।

    যদিও ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন ভুলু বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি আমার ওয়ার্ডকে মাদক মুক্ত করতে। আমি মনে করি এটি আমি পেরেছি। তাছাড়া এখানে গ্যাং কালচার নেই। কিশোর গ্যাং বিস্তারের আগেই আমি তাদের প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।

    অপরদিকে, সিটি করপোরেশনের ডেঙ্গু সরদার সড়ক, খান সড়ক, দক্ষিণ আলেকান্দা কাজীপাড়া সড়ক, দক্ষিণ আলেকান্দা কলোনী নিয়ে গঠিত ১৩ নম্বর ওয়ার্ড। ০ দশমিক ৫৬ বর্গ কিলোমিটারের এই ওয়ার্ডটির জনসংখ্যা ৯ হাজার ৭০০ হলেও ভোটার ৬ হাজার ৫৩১ জন।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের আওতাধিন সিকদার পাড়া, খান সড়কসহ কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন হয়েছে বর্তমান মেয়রের আমলে। তবে সড়কগুলোর সাথে উন্নতী হয়নি ড্রেনেজ ব্যবস্থা। তাই সড়ক উন্নয়ন হলেও এই এলাকার মানুষের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিয়ে চিন্তা কাটেনি।

    নগরীর জমির খান সড়কের বাসিন্দা শিক্ষক নেতা আবু জাফর বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে আমাদের এই এলাকার তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। একটি ড্রেন আছে, যেটা তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত মেয়র আওলাদ হোসেন দিলু’র আমলে হয়েছে। পরবর্তীতে বিএনপির মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময় একটি রাস্তা হয়েছে। পরবর্তীতে আর কোন উন্নয়নের ছোঁয়া এখানে লাগেনি। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে গোটা এলাকা।

    ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মেহেদী পারভেজ খান আবির বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি এবং যতটুকু সম্ভব উন্নয়ন করতে পেরেছি। তবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী করতে পারিনি। কারণ আমাদের বর্তমান মেয়র কোন বরাদ্দ পাননি। তার মধ্যেও নিজস্ব আয় দিয়ে ৩টি বিটুমিনাস এবং ৩টি আরসিসি রাস্তা করেছি। মেয়র মহোদয় যতটুকু করেছেন ভালোই করেছেন। পরিস্কার পরিচ্ছনতার দিক থেকেও থেকেও ভালো। তবে বরাদ্দের অভাবে প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মকা- করতে পারেননি তিনি।
     


    টিইউ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ