সমুদ্রে ঝড় থেকে জেলেদের রক্ষায় ওয়াকিটকি ও মোবাইল ফোন দেওয়া হবে: বিভাগীয় কমিশনার

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেছেন, পরিকল্পনায় রয়েছে গভীর সমুদ্রে ঝড় থেকে জেলেদের রক্ষা করতে তাদেরকে একটি করে ওয়াকিটকি অথবা মোবাইল ফোন দেওয়া হবে। স্যাটেলাইট ও রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কাছে দুর্যোগের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলেদের বোটগুলোতে সোলার প্যানেল থাকবে যেন তারা মোবাইল চার্জ করতে পারে। এছাড়া জেলেদের জিপিএস ব্যবহারে পারদর্শী করা হবে। এসময় তিনি কাঠের তৈরি নৌকাগুলো যেন স্বল্প টাকায় রেজিস্ট্রেশন পায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন ও বিবিএস'র আয়োজনে বুধবার সকাল ৯ টায় নগরীর সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে ‘অবহিতকরণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করি’ স্লোগান নিয়ে ২০-২৯ আগস্ট ২০২৬ ‘নৌযান শুমারি’ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, একটি সভ্য দেশে শুমারি খুব প্রয়োজন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সম্পদ বণ্টনের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পরিসংখ্যান অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের তথ্য ব্যবহার করে। নির্ভুল তথ্য পেতে শুমারি পরিচালনার ক্ষেত্রে ভালো মানের প্রশ্নমালা তৈরি করা প্রয়োজন এবং ১৪ বছরের চেয়ে কম বয়সী কারো থেকে তথ্য সংগ্রহ করা অনুচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ নৌবিদ্যায় পারদর্শী তারা বেশি শক্তিশালী। প্রযুক্তির উৎকর্ষে মাছ শিকারের পদ্ধতিতে এসেছে বিরাট পরিবর্তন। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ে অধিক মাছ শিকার করা সম্ভব। আমাদের দেশের জেলেরা অন্যান্য দেশের জেলেদেরে চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যায়। আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে তাদের সাথে দুর্যোগকালীন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ফলে অনেক জেলে অকালে মারা যায়।
জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার, উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুম বিল্লাহ।
অনুষ্ঠানে নৌযান শুমারি ২০২৬ বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বরিশাল বিভাগীয় পরিসংখ্যান অফিসের যুগ্মপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালক মো. আতিকুর রহমান। এসময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা , বিভিন্ন নৌযান মালিক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযান, ডাম্ববার্জ ও অন্য কোনো ইঞ্জিন চালিত নৌযান দ্বারা চালিত নৌযান শুমারির আওতাভুক্ত হবে। তবে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্ববধানে এবং তাদের মালিকানাধীন পরিচালিত নৌযান এ শুমারির আওতার বাইরে থাকবে।
এইচকেআর