বর্ষা মওসুমে এবারও জলাবদ্ধতার ভয় নগরবাসীর

এবারও বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতার ভয়ে আছেন বরিশাল নগরের বাসিন্দারা। তারা বলছেন, বৃষ্টি এলে নিচু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট সব ডুবে যায়। তাই চলাচল করা যায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রূপাতলী সোহরাব খান হাউজিং, বিএম কলেজ রোড, প্যারারা রোড, বগুড়া রোড, কলেজ রোঁ রোড ও চাঁদমারী মাদ্রাসা গলি সড়কে উন্নয়ন না হওয়ায় বৃষ্টির সময় পানি জমে। এবারও একারণে দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস রাঢ়ী বলেন, গত ১০ বছরে সোহরাব হাউজিংয়ের রাস্তার কেউ কাজ করেনি। এখানে প্রায় দুই হাজার পরিবার বসবাস করে। সামনে বৃষ্টি মওসুম আসছে। তাই এবারও ভারী বৃষ্টির জলে ডুবতে হবে বলে এখনই চিন্তার ভাঁজ মাথায় পড়েছে। তিনি বলেন, বিগত দিনের দুভোর্গের কথা মনে পড়লে ইচ্ছে হয় বাড়ি ঘর বিক্রি করে অন্য কোথাও চলে যাই। শুনেছি কাজের টেন্ডার হইছে। কিন্তু কোন খবর নাই।
চাঁদমারী এলাকার আনিস বলেন, ভাই মাদ্রাসা দুরাবস্থার কারণে সেখানে বসবাস করা দায়। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে। এর ওপরে ময়লা আবর্জনা মিশে যায়। সেই ময়লা পানি নিয়ে আমাদের বসবাস করতে হয়। অথচ এই সড়কটি উন্নয়নে কারো মাথা ব্যাথা নেই।
তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষা মওসুমে এবার গতবারের মতো জলাবদ্ধতা হবে না। তারা বলছেন, জলাবদ্ধতা রোধে বিভিন্ন স্থান চিহ্নিত করে আগে ভাগেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখনো বিভিন্ন স্থানে কাজ চলমান রয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় অনেকেই বলেছেন, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা উুঁচু করা হয়েছে। পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা হয়েছে।
গত বছর বর্ষা মওসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যেত। এতে নানা রকম দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষের চলাচলে। এরপর গোরস্তান রোড, অক্সফোর্ড মিশন, ফকির বাড়ী রোডের উন্নয়ন কাজ হাতে নেয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। এছাড়া সম্প্রতি আগরপুর রোড, বটতলার নবগ্রাম রোডের কাজ করা হয়েছে বলে কিছু স্বস্তি পেয়েছেন নগরবাসী।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, অনেক এলাকারই সড়ক নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছে। সামনে যিনি মেয়র হয়ে আসবেন তিনি চাইলে সেই কাজগুলো করতে পারবেন।
এইচকেআর