ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল অঞ্চলের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন নুরুল আমিন  বিধবা নারীকে ধর্ষণ-গর্ভপাত, পটুয়াখালীতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা বরিশালের আটঘর কুড়িয়ানায় প্রতি মৌসুমে ডিঙ্গি নৌকায় ২০ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি বরিশালে ৬৬ হাজার টন বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের প্রকল্পটি ৮৫ ভাগ সম্পন্ন  সমুদ্রে ঝড় থেকে জেলেদের রক্ষায় ওয়াকিটকি ও মোবাইল ফোন দেওয়া হবে: বিভাগীয় কমিশনার  বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য এনসিপির গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত অনেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএম কলেজ অধ্যক্ষ  জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা
  • বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন

    আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই চলছে প্রচার প্রচারণা

    আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই চলছে প্রচার প্রচারণা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এখন চলছে মনোনয়নপত্র বিতরণ এবং গ্রহণ কার্যক্রম। বিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা শুরু হতে এখনো ১৬ দিন বাকি। কিন্তু তার আগেই বিভিন্ন ভাবে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণায় জমে উঠেছে সিটি নির্বাচন।

    আচরণবিধির তোয়াক্কা না করেই দিন-রাত সমান ভাবে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন দলীয় মেয়র প্রার্থীরা। তারা প্রকাশ্যেই রাজনৈতিক কর্মসূচি আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের নামে নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে ভোট চাইছেন। কেউ কেউ বিতরণ করছেন লিফলেট। এ থেকে বিরত নেই ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।

    তবে এ নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা দেখা যাচ্ছে না নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। সম্প্রতি নগরীতে শোডাউন করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে সশরীরে ডেকে নিয়ে কারণ দর্শাতে বাধ্য করা হলেও বাকিদের প্রতি দৃষ্টি নেই তাদের।

    বিশেষ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগের ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অভিযোগকারীকেই শাসিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

    যদিও অভিযোগকারী জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধেও রয়েছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ। তিনি নিজেই মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে নির্বাচনী লিফলেট নিয়ে ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তবে এটা নির্বাচন আচরণবিধির মধ্যে পড়ে না বলে দাবি এই প্রার্থীর।

    তবে আচরণবিধির সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর রাখছেন বলে দাবি বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের। যারাই আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই প্রার্থী কে বা কোন দলের সেটা বাদ বিচার করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    জানা গেছে, ‘গত ৩ এপ্রিল বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য ১২ জুন সময় নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর থেকেই বরিশাল নগরীতে বেজে ওঠে নির্বাচনের ডামাঢোল। পরবর্তী ১৫ এপ্রিল মনোনয়ন বোর্ডের সভায় বরিশাল সিটি নির্বাচনে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি ২০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বিশাল মোটর শোভাযাত্রা করে বরিশালে আসেন। দলীয় কার্যালয়ের সামনে গ্রহণ করেন গণসংবর্ধনা।

    এদিকে, গত ২ মে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। ওই দিন তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে শুরু করে চকবাজার হয়ে লাইন রোড পর্যন্ত প্রার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়সহ নগর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন ভোটারদের কাছে।

    এরপর প্রায় প্রতিদিনই গণসংযোগ করছেন তিনি। কখনো নগরীতে হেঁটে হেঁটে ব্যবসায়ী, পথচারী এবং শ্রমজীবী মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। কখনো প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে দলীয়, পেশাজীবী এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করছেন তিনি।

    মেয়র প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত ছাড়াও তাঁর স্ত্রী লুনা আবদুল্লাহ নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মানুষের কাছে নৌকায় ভোট চাইছেন। তাছাড়া গত কয়েকদিন ধরেই যুবলীগের একটি অংশ নগরীতে প্রকাশ্যে প্রচার চালাচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

    এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নগরীতে গত ৮ এপ্রিল মোটরযান নিয়ে শোডাউন করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় নির্বাচন কমিশন। বুধবার বেলা ১২টার দিকে মেয়র প্রার্থী নিজেই নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হয়ে নোটিশের জবাব দেন।
    তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রকাশ্যে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। বুধবার তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ক্ষোভের কথা জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন পক্ষপাত্বিমূলক আচরণ করলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।

    অপরদিকে, জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপসেরও অভিযোগ আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রকাশ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তার চোখে ধরা পড়ছে না। আমি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছি। কিন্তু তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

    তাপস বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার আমার অভিযোগের গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো আমাকে শাসিয়েছেন। তিনি ফোন করে আমাকে বলেছেন, ‘আমি যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন না করি। লঙ্ঘন করলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।  
    তবে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নিজেই নির্বাচন আচরনবিধি ভাঙছেন বলে অভিযোগ জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে। তিনি এবং তার দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যেই প্রচার-প্রচারনা এবং লিফলেট বিতরণ করছেন বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অনুসারীদের।

    এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ‘আমি এখনো প্রচারনা শুরু করিনি। বলেন, ‘আমি যে লিফলেট বিতরণ করছি, সেখানে নির্বাচনী প্রতীক নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী যেখানে প্রচার করছে, সেখানে তাদের নির্বাচনী প্রতীক নৌকাও রয়েছে।  
    তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৌকা প্রতীকের প্রধান এজেন্ট এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আফজালুল করীম। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করিনি। আর প্রার্থী রাস্তায় হাঁটতে গেলে মানুষের সাথে কথা বললে, শুভেচ্ছা বিনিময় করলে সেটা আচরনবিধির মধ্যে পড়ে না। আমরা নির্বাচন বিধির প্রতি সম্মান রেখেই কাজ করছি।

    এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোন প্রার্থীই আমাদের কাছে আলাদা নয়। আমরা সবাইকেই একভাবে দেখি। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর শোডাউনের বিষয়টি আমার দৃষ্টি আসার সাথে সাথে ওই প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। এমনকি তিনি নিজেই নির্বাচন কার্যালয়ে এসে শোকজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বাকি প্রার্থীরাও যদি আচরনবিধি লঙ্ঘন করে তবে তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, ‘আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ মে। বাছাই ১৮ মে। ২৫ মের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। এখন পর্যন্ত মেয়র পদে দলীয় চারজন এবং স্বতন্ত্র পাঁচজনসহ মোট ৯ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন প্রার্থীই মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
     


    টিইউ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ