ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল অঞ্চলের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন নুরুল আমিন  বিধবা নারীকে ধর্ষণ-গর্ভপাত, পটুয়াখালীতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা বরিশালের আটঘর কুড়িয়ানায় প্রতি মৌসুমে ডিঙ্গি নৌকায় ২০ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি বরিশালে ৬৬ হাজার টন বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের প্রকল্পটি ৮৫ ভাগ সম্পন্ন  সমুদ্রে ঝড় থেকে জেলেদের রক্ষায় ওয়াকিটকি ও মোবাইল ফোন দেওয়া হবে: বিভাগীয় কমিশনার  বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য এনসিপির গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত অনেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএম কলেজ অধ্যক্ষ  জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা
  • যুগ যুগ ধরে একটি ড্রেনের অপেক্ষায় দেড় শতাধিক পরিবার

    ‘সিঙ্গাপুর করবে কইয়া ভোট নেছে, এহন দেহি আফ্রিকার জঙ্গল’

    ‘সিঙ্গাপুর করবে কইয়া ভোট নেছে, এহন দেহি আফ্রিকার জঙ্গল’
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    দীর্ঘ দিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড। ভৌগলিক অবস্থান থেকে ওয়ার্ড দুটির আয়তন প্রায় সমান হলেও জনসংখ্যায় এগিয়ে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডটি। বিগত পাঁচ বছরে এই ওয়ার্ডের একটি রাস্তা ও একটি ড্রেন নির্মাণ হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ২২ নম্বর ওয়ার্ডে।

    বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের কোলঘেঁষা ২২ নম্বর ওয়ার্ডটিতে যুগ যুগ ধরে স্থানীয়দেও দাবি ছিল একটি ড্রেন নির্মাণ। কিন্তু তাদের দাবি নিরসনে এগিয়ে আসেননি কোন জনপ্রতিনিধিই। এমনকি ওয়ার্ডটিতে একজন কাউন্সিলর থাকলেও গত পাঁচ বছরে ওয়ার্ডবাসীর কোন কাজেই আসেননি তিনি। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় ভোটারদের।

    তবে দুই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্টরা উন্নয়ন না হওয়ার জন্য মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, দুই ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা মেয়রের ভিন্ন মতের হওয়ায় কোন উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। এবারের নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হলে উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবার জনসংযোগ করছেন।

    জানা গেছে, নগরীর পূর্ব নবগ্রাম, পশ্চিম নবগ্রাম, পশ্চিম জিয়া সড়ক, নয়াকান্দা, কাজিপাড়া, উত্তর জিয়া সড়ক এবং পশ্চিম সিএন্ডবি রোড নিয়ে গঠিত সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড। ০ দশমিক ৭৯ বর্গ কিলোমিটারের এই ওয়ার্ডে জনসংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। এদের মধ্যে ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৮৪৩ জন।

    অপরদিকে, ‘উত্তর সাগরদী, তাজকাঠী, দক্ষিণ সাগরদী দরগাহ বাড়ি, পশ্চিম সিএন্ডবি রোড, নমশুদ্ধপাড়া এলাকা নিয়ে গঠিত ২৩ নম্বর ওয়ার্ডটির আয়তন ০ দশমিক ৭৪ বর্গ কিলোমিটার। যেখানে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস হলেও এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৫২ জন।
    সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘দুটি ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল। নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ওয়ার্ডের তিন দিক থেকে বয়ে যাওয়া খালগুলো শেষ কবে পরিস্কার করা হয়েছে, তা সঠিকভাবে বলতে পারছে না কেউ। ফলে মশা-মাছির বিস্তার ঘটছে।

    ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নমশুদ্রপাড়ার বাসিন্দা দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মোরাতো সব সময় অবহেলার শিকার। মজিবর রহমান সরোয়ার যেকালে মেয়র আলে,ø হেইসময় বাড়ির সামনের রাস্তাডা কর্ইরা দেল্লে দেইখা এ্যহন আটতে পারি। এরপর আর কেউ রাস্তাঘাট ঠিক করতে আয়নাই।

    তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে ভোডের সময় আওয়ামী লীগের নেতারা আইয়া মিটিং কর্ইরা কইয়া কইছেলে বরিশালরে সিঙ্গাপুর বানাইবে। এহন দেহি সিঙ্গাপুর না, আফ্রিকার জঙ্গলপুর অইয়া গ্যাছে। বাড়ির পাশের খালডা ময়লা পার্ইরা পানি নষ্ট অইয়া গ্যাছে। পানি নামতে পারে না। পঁচা পানির গোন্দে হারাদিন নাক ধইররা আটতে অয়। একদিনকাল সিটি করপোরেশন দিয়া কেউ আইয়া কয়না যে খালডা একটু পরিস্কার কর্ইরা দেই।

    এই দিন মজুর অভিযোগ তুলে বলেন, ‘এহানের যে কাউন্সিলর আছে, হে তো মোগো দিকে খেয়ালই রাহে না। একদিনকাল আইয়া কয়নায় আমরা বাইচ্চা আছেন না মইররা গেছেন। মোরা কোনো দল করি না। হের পরেও মোগো ঘরে টিসিবির একটা কার্ড পাইনাই। 

    ওয়ার্ডের পূর্ব নবগ্রাম রোডের বাসিন্দা গৃহকর্মী আম্মিয়া খাতুন বলেন, ‘মোগো গরিবের কতা হেউ হোনে! এহন ভোড আইছে দেইখ্যা প্রার্থীরা খোঁজ খবর নেতে শুরু হরছে। এবার ভোট দিমুহানে! মশার ফান্নে ঘরে ঘুমাইতে পারিনা। বিয়াল অইলেই ঘরে মশারি টাঙ্গাইয়া রাহি। মশাতো দূরের কথা একদিন আইয়া ইদানির ওষুধও কেউ দিয়া যায়নাই। কিন্তু সিটি করপোরেশনরে ট্যাক্স দেওয়াই লাগে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘২৩ নম্বর ওয়ার্ডটির তিন দিক দিয়ে বয়ে গেছে খাল। খালের অপরপ্রান্ত ২৬, ২৭ এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ড থেকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে হলে খালের ওপর দিয়ে যেতে হয়। খালপাড় ঘেঁষে বহু মানুষের বসবাস। সেখানে বহুতল ভবন গড়ে ওঠেছে। 

    তবে তাদের চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট কোন রাস্তা নেই। এমনকি খালের ওপরে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো ব্রিজ বা কালভার্ডও নির্মাণ করা হয়নি। বাসিন্দারা নিজস্ব অর্থায়নে ছোট ছোট ব্রিজ বা কালভার্ড বানিয়ে চলাচল করছে। এর ফলে কোন কোন জায়গায় খালের পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

    তবে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার বলেন, ‘একেবারেই উন্নয়ন হয়নি এটা ঠিক না। ওয়ার্ডের মধ্যে ইসলামপাড়া সড়কে ড্রেন এবং সাগরদী থেকে সিএন্ডবি পুল পর্যন্ত সড়কটির উন্নয়ন আমার সময়েই হয়েছে। তবে মেয়র মহোদয় আমাদের দিয়ে কোন কাজ করাননি। তিনি সবসময় তার পছন্দের লোক দিয়ে কাজ করিয়েছেন।  
    তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে কারোর জন্য কিছু করার সুযোগ নেই। আমার সেই সাধ্যও নেই। তার পরেও যতটুকু পেরেছি মানুষের জন্য করেছি।  

    এদিকে, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পার্শ্ববর্তী ২২ নম্বর ওয়ার্ডটিও অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত। এই ওয়ার্ডেও নেই পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। যেসব রাস্তা আছে সেগুলো ভেঙে একাকার। এখানকার বাসিন্দাদের দাবি, গত ১৫ বছরেও ওয়ার্ডটিতে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়ে নির্বাচিত হলেও পরে আর তাদের খবর থাকে না। এমনকি বর্তমানে যিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে রয়েছেন, তার সাথে ওয়ার্ডবাসীর কোন যোগাযোগই নেই।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের আওতাধীন খ্রিস্টান কলোনি এবং পার্শ্ববর্তী হাজি বাড়িতে অন্তত দেড় শতাধিক পরিবারের বসবাস। দুটি এলাকার মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টি এলেই হাঁটুসমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে খ্রিস্টান কলোনি এবং হাজিবাড়িতে। আর জমে থাকা পানি নামতে সময় লাগছে ৫ থেকে ১০ দিন।

    হাজি বাড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন গঠনের আগে থেকে একটি ড্রেনের জন্য সিটি করপোরেশন এবং জনপ্রতিনিধিদের দারে দারে ধর্ণা দিয়েছি। কিন্তু কোন কাজই হয়নি। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সময় কাজিপাড়া থেকে নবগ্রাম সড়ক পর্যন্ত একটি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ড্রেনটি পুরোপুরি শেষ না করেই ঠিকাদার বিল তুলে নিয়ে গেছে। খ্রিস্টান কলোনীর বাসিন্দাদের ব্যবহৃত পানি এসে জমছে হাজি বাড়িতে। এতে পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। সেখানে থাকা খালটিও মড়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
    অপরদিকে, নগরীর কাজিপাড়ার বাসিন্দা সোলায়মান বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে যে কাউন্সিলর আছে তা মনেই হচ্ছে না। কারণ বর্তমান কাউন্সিলর আনিসুর রহমান দুলাল কখনো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াননি।  

    একই ওয়ার্ডের কাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগের কর্মী লিমা বলেন, ‘কাউন্সিলর আনিসুর রহমান দুলাল আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতার কাছের লোক। তার ক্ষমতায় কাউন্সিলর হয়েছেন দুলাল। এবারও সেভাবেই কাউন্সিলর হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তবে তিনি কাউন্সিলর হলে ওয়ার্ডবাসী আবারও বঞ্চিত হবেন বলে দাবি দলীয় এই কর্মীর।
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান দুলাল দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসার প্রয়োজনে দীর্ঘসময় তাকে বরিশালের বাইরে থাকতে হয়েছে। এ কারণে ওয়ার্ডবাসীর সাথে তেমন যোগাযোগ ছিলো না তার। তবে এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে কাউন্সিলর আনিসুর রহমান দুলালকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
     


    টিইউ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ