বাবুগঞ্জে বিনা উদ্ভাবিত মুগডালের বাম্পার ফলন

বাবুগঞ্জে বিনা উদ্ভাবিত গ্রীস্মকালীন মুগ ডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বিনামুগ-৮ ডালের ফলন প্রতি হেক্টর জমিতে ১.৮ মে.টন (১৮০০ কেজি) ধরা হলেও ওই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
চলতি খরিফ-১ মৌসুমে বিনামুগ-৮ ডাল আহরণ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে এমনটাই জানিয়েছেন পূর্ব ভবানীপুর গ্রামের কৃষক গোলাম কবির। এছাড়াও একই এলাকার মুগডাল চাষি আয়নাল হোসেন, ফজলু সরদারসহ অনেকেই শুনিয়েছেন বিনা উদ্ভাবিত উন্নত জাতের মুগ-৮ ডালের ফলনে নিজেদের সাফল্যের গল্প।
বৃহস্পতিবার উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে শস্য আহরণ উপলক্ষ্যে ডালক্ষেতের পাশেই অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।
আঞ্চলিক বিনা রহমতপুর উপকেন্দ্রের ইনচার্জ জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিনার ময়মনসিংহ প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক ড. আবদুল মালেক, উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুন্নাহার বেগম, উদ্ভিদ রোগতত্ত¡ বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবা কানিজ হাসনা, বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ মোঃ আরিফুর ইসলাম, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না প্রমুখ।
মাঠ দিবসে সফল কৃষক মো. গোলাম কবির জানান, ৫০ শতাংশ জমিতে তিনি বিনা উদ্ভাবিত গ্রীস্মকালীন মুগ-৮ জাতের ডাল চাষ করেছেন। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা তিনি ৩৫০ থেকে ৪০০ কেজি ধরলেও বিনা উপকেন্দ্রের পরামর্শ এবং চাষপদ্ধতি অনুসরণ করে তার জমিতে প্রায় ৫০০ কেজি ডালের ফলন পাচ্ছেন। ধানের ক্ষতিটা তিনি ডাল থেকে এবার পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে জানান কৃষক গোলাম কবির।
বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর বিনা আঞ্চলিক উপকেন্দ্রের ইনচার্জ জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন বলেন, 'বিনামুগ-৮ একটি উচ্চ ফলনশীল জাতের মুগডাল। কম জমি ব্যবহার করে কম খরচে কৃষক যাতে সর্বোচ্চ ফলন পায় সেজন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শস্যের উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করে যাচ্ছে বিনা। আমাদের পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনা মোতাবেক বিনামুগ-৮ জাতের ডালের চাষাবাদ করে এখানের কৃষকরা সফলতা পেয়েছেন।'
এইচকেআর