ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল অঞ্চলের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন নুরুল আমিন  বিধবা নারীকে ধর্ষণ-গর্ভপাত, পটুয়াখালীতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা বরিশালের আটঘর কুড়িয়ানায় প্রতি মৌসুমে ডিঙ্গি নৌকায় ২০ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি বরিশালে ৬৬ হাজার টন বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের প্রকল্পটি ৮৫ ভাগ সম্পন্ন  সমুদ্রে ঝড় থেকে জেলেদের রক্ষায় ওয়াকিটকি ও মোবাইল ফোন দেওয়া হবে: বিভাগীয় কমিশনার  বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য এনসিপির গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত অনেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএম কলেজ অধ্যক্ষ  জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা
  • নজরদারি নেই প্রশাসনের 

    গণপরিবহনে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

    গণপরিবহনে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বেসরকারি ব্যাংকের চাকরিজীবী রাহাত হোসেন।  ঈদ আনন্দ শেষে বরিশাল থেকে ঢাকায় ফিরছেন। তিনি বলেন, বাউফল থেকে বরিশালে লোকাল বাসে নির্ধারিত ১৩০ টাকার ভাড়ার স্থলে ১৫০ টাকা দিয়ে আসতে হয়েছে। এরপর থ্রি  হুইলারে নথুল্লাবাদ বাস র্টামিনালে ১৫ টাকার ভাড়ায় গুনতে হয়েছে ২০ টাকা। একইভাবে ঢাকার যাবার জন্য ঢাকাগামী ইলিশ পরিবহনে টিকিট কাটতে গিয়ে শুনি এসি ৮০০ ও নন এসি ৬০০  টাকা। যা এই পরিবহনে আগে ছিল ৪৫০ ও ৬০০ টাকা ভাড়া।

    ঈদের পরবর্তি  ১৫০-২০০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকাগামী প্রায়ই  পরিবহনে একইভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে । তাই কি আর করা কর্মস্থলে যেতে হবে। এসময় ভাড়ার নীতিমালা ও জবাবদিহি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ ব্যাংকার।

    শুধু রাহাত হোসেনই নয়, এমন অভিযোগ করেন  বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সাহেব আলী। তিনি বলেন, ‘সোমবার থেকে অফিস চালু হয়েছে। এক দিন বেশি ছুটি কাটিয়ে ফেলেছি। আর সুযোগ নেই।’তিনি বলেন, ‘প্রতিবারের চেয়ে এবার ঈদযাত্রা নিরাপদ ও দুর্ভোগহীন হয়েছে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য। তবে, হতাশার কথা হলো পরিবহনগুলো যার কাছ থেকে যা তা ভাড়া নিচ্ছে। মানছে না যাত্রী ভাড়ার আইন বা বিধিনিষেধ। এগুলো প্রশাসন তদারকি না করলে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে।'

    পড়াশোনার পাশাপাশি একটি খণ্ডকালীন চাকরি করা ইলিয়াস বলেন, ‘ঈদের আগে ৬০০ টাকায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এসছি। ঢাকায় যাবার জন্য লোকাল বাসে ৮০ টাকার ভাড়া ১২০ টাকা বাড়তি দিয়ে রূপাতলী বাসর্টামিনালে হলুদ অটোরিক্সায় নথুল্লাবাদ বাসর্টামিনালৈ ১৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকা  দিয়ে আসতে হল। আবার পরিবহনে এসে ২০০-৩০০ টাকা বাড়তি দিয়ে যেতে হচ্ছে।’

    বুধবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় ঈদুল ফিতরের টানা কয়েক দিনের ছুটি শেষে ফের কর্মস্থলে ফিরতে বিভিন্ন পরিবহনে কাউন্টারে টিকিট কাটছে কর্মজীবী মানুষ। এর আগে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে ফিরেছিলেন তারা। এবার ছুটি শেষে আবার ফিরতে হচ্ছে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে। ফেরার সময় যানজটের বিড়ম্বনায় না পড়লেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছে তাঁরা।

    জানা গেছে, বরিশাল থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রায় সব বাসেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০০-২০০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইলিশ পরিবহন (এসি) আগের ৬০০ টাকার ভাড়া ৮০০ ও সাধারণ (নন এসি) ৪৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। 

    একইভাবে  গ্রীন লাইনের বিজনেস (এসি) ১২০০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা, সোহাগ পরিবহনে ১২০০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা, সাকুরা পরিবহনে ঢাকা- বরিশাল ৫০০ টাকা ভাড়া ২০, ঢাকা-গাবতলী ৬৫০ টাকার ভাড়া ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। 

    এছাড়া হানিফ পরিবহনে ঢাকা-সায়েদাবাদ ৫০০ টাকার স্থলে ২০ টাকা বাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে। অপরদিকে থ্রি হুইলার, হলুদ অটোরিক্সা ও সিএনজি অটোরিকশায় ১৫-২৫ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। 

    বাড়তি ভাড়া কেন রাখছেন, জানতে চাইলে বেপারি পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা তো কম রাখছি, অন্যরা আরও বেশি রাখছে।’ 

    একই সুরে ইলিশ পরিবহনের কন্ট্রাক্টর রানা বলেন,বরিশাল থেকে আগে যে ভাড়া ছিল, তার চেয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বাড়তি নেয়া হচ্ছে। সামনের সপ্তাহ থেকে আগের ভাড়াই নেয়া হবে। আগামীকাল থেকে যাত্রী বাড়বো। তখন কথা কমুনে। এহন যাইবেন কি না বলেন?'

    এ বিষয়ে বরিশাল যাত্রী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক দেওয়ান আব্দুর রসিদ নিলু বলেন, পরিবহন সেক্টর এটা নতুন না, এটা একটা রেওয়াজ। ঈদ ও কোরবানি আসলেই এই নৈরাজ্য শুরু হয়। প্রশাসন থেকে শক্ত মনিটরিং না থাকার কারণে এই অবস্থা চলছে। মনিটরিং জোরদার করা দরকার। জরুরি ভিত্তিতে এহেন ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

    এ বিষয়ে জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে ঢাকাগামী পরিবহন যাতে অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে পারে, সেজন্য প্রশাসন ও মালিক সমিতির লোকজনা মনিটরিং করছে। কেউ বাড়তি ভাড়া নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ