ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল অঞ্চলের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন নুরুল আমিন  বিধবা নারীকে ধর্ষণ-গর্ভপাত, পটুয়াখালীতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা বরিশালের আটঘর কুড়িয়ানায় প্রতি মৌসুমে ডিঙ্গি নৌকায় ২০ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি বরিশালে ৬৬ হাজার টন বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের প্রকল্পটি ৮৫ ভাগ সম্পন্ন  সমুদ্রে ঝড় থেকে জেলেদের রক্ষায় ওয়াকিটকি ও মোবাইল ফোন দেওয়া হবে: বিভাগীয় কমিশনার  বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য এনসিপির গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত অনেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএম কলেজ অধ্যক্ষ  জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা
  • দখল-দূষণে হুমকির মুখে পাতারহাট খালের অস্তিত্ব 

    দখল-দূষণে হুমকির মুখে পাতারহাট খালের অস্তিত্ব 
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাংলাদেশে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞ বললে প্রথমেই যার নাম চলে আসে তিনি অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত এ অধ্যাপক বর্তমানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। 

    যমুনা নদীর উপর বঙ্গবল্পব্দু সেতু এবং পদ্মার বুকে দেশের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সেতু নির্মাণের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত সম্প্রতি একটি সেমিনারে বলেছেন, ‘দিনাজপুরে যাকে নদী বলে বরিশালের মানুষ তাকে খাল বলে।’ ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল। উত্তরবঙ্গের মানুষ খাল ও নদীর তফাৎ কমই বোঝেন। 

    তারা যেসব জলাধারকে নদী বলে থাকেন, তা বরিশালের বাসিন্দারা দেখলে অনেক সময় খালও বলতে চাইবেন না। নালার মতো চিকন শত শত নদী বৃহত্তর রংপুরে রয়েছে। অথচ বরিশাল অঞ্চলে এমন অনেক খাল রয়েছে যা একদিকে যেমন খরস্রোতা অন্যদিকে প্রশস্ত নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠে বন্দর। 

    কর্ণফুলী নদীর তীরের চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর, পশুর নদীর তীরের মোংলা সমুদ্র বন্দর ও পায়রা নদীর তীরের পায়রা সমুদ্র বন্দর-এর অন্যতম উদাহরণ। একইভাবে কীর্তনখোলা নদীর তীরে গড়ে ওঠা বরিশাল নগরীর ক্ষেত্রেও নদীর গুরুত্ব অনস্স্বীকার্য। পোর্ট রোডের দিকে চোখ রাখলে এর বাস্তবতা অনুধাবন করা যায়। নদী থেকে সংযোগ নিয়ে অনেক খাল মফস্স্বলের অনেক এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যকে চাঙ্গা করেছে। 

    অন্যভাবে বললে স্থানীয় অনেক খাল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে নগরের সঙ্গে সেতুবন্ধন করে দিয়েছে। এমনই দুটি খাল হচ্ছে উলানিয়া ও পাতারহাট খাল। 

    বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সদরের বাজারটি পাতারহাট বন্দর নামে পরিচিত। পাতারহাট থেকে ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী উপজেলার বৃহত্তম বন্দর হচ্ছে উলানিয়া। চট্টগ্রাম, মোংলা কিংবা পায়রার মতো আন্তর্জাতিক মানের বন্দর নাহলেও স্থানীয়দের কাছে পাতারহাট ও উলানিয়া বন্দর হয়ে ওঠার নেপথ্য কারণ উভয় বাজারটি খালের তীরে অবস্থিত।

    প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার পাতারহাট বাজারে হাট বসে। একইভাবে প্রতি বৃহস্পতি ও সোমবার হাট বসে উলানিয়া বাজারে। পাতারহাট বাজারে হাটের ভিড় শুরু হয় সকাল থেকেই। দুপুরের পরই ভিড় ভেঙে যায়। তবে উলানিয়া বাজারে হাট বসতো বিকেল ৩টা থেকে। রমরমা বেচাকেনা চলত রাত ১১টা পর্যন্ত। 

    এখনো এ বাজারে আগের মতোই হাট বসে। তবে নেই সেই চিরচেনা ভিড়। মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে উলানিয়া ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যদিও নদীর মাঝখানে চরে এ ইউনিয়নের কার্যত্রক্রম চলছে। ভোলা সদর উপজেলার রামদাসপুর, বঙ্গেরচর ও কাপেরহাটও মেঘনা বিলীন করেছে। তাই এখন আর আগের মতো হাটবার দিন দুপুর অবধি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বিত্রিক্রর জন্য উলানিয়া বাজারে যান না। মায়ের হাতে পরম আদরে লালিত দেশী মুরগীও খুব একটা দেখা যায় না উলানিয়া বাজারে হাটের বিকেলে। কবুতরের হাটেও ভিড় থাকে না। 

    বাঁশ দিয়ে তৈরি সরঞ্জামাদি নিয়ে বিক্রেতারা পসরা সাজিয়ে বসেন, তবে তা আগের তুলনায় সামান্যই বলা চলে। মরিচ আর সুপারিতে একসময় ভরে যেত উলানিয়ার আড়ৎদারদের গোলা। সেখানে তিল, তিশি, সয়াবিন এখনও দেখা যায়। তবে তাও সীমিত পরিসরে। 

    পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী থেকে উলানিয়া বাজারে প্রতি হাটে বিশেষ করে বর্ষাকালে কাঠের নৌকা ভর্তি হরেক রকমের গাছের চারা যেত। রেইনট্রি, মেহগনি, চামবুল, আম, জাম, আমড়া, জলপাই, কাঁঠাল, লিচু, লেবু, কমলা, আপেল, তেজপাতা, দারচিনি ও এলাচ চারা ছিল অন্যতম। এছাড়া লাউ, শিম চারার পাশাপাশি গোলাপ ফুল চারার আধিপত্য দেখা যেত। পেয়ারার মৌসুমে কাচা-পাকা পেয়ারার গল্পব্দ পথচারীদের নজর কাড়ত। এখনও যায়, তবে খুবই সীমিত পরিসরে। উলানিয়ার হাটের এ অবস্থার জন্য নদীভাঙন যেমন দায়ী। তেমনি খাল শুকিয়ে যাওয়াটাও কম দায়ী নয়।

    একসময় উলানিয়া খাল দিয়ে মাঝারি আকারের জাহাজ চলাচল করত। ভাটার সময় এ খাল শুকিয়ে গেলেও জোয়ারে কানায় কানায় ভরে যেত। দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টায় ২ বার জোয়ার ভাটা হতো। উলানিয়া খাল দিয়ে ট্রলারে স্থানীয়রা ছাগলিয়া গিয়ে তেতুলিয়া নদীতে থাকা লঞ্চে চড়ে বরিশাল শহরে যেতেন। গতিপথ পরিবর্তন করে খালের একটি অংশ মিশেছে মেঘনা নদীর সঙ্গে। 

    ফলে আগের খালটি বেশিরভাগ সময় শুকিয়ে থাকছে। এ খাল দিয়ে একসময় পালতোলা নৌকায় গুন টেনে কৃষকরা তাদের সোনালী ফসল বাড়ি নিয়ে আসতেন। খালটি খনন করা হলে একমালাই নৌকা না চললেও, পালতোলা নৌকার দেখা না মিললেও, গুন টানার জায়গাটি ইঞ্জিন দখল করলেও উলানিয়া বন্দর হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে।
     


    শাজাহান/ এইচকেআর 
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ