ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি ৫ বছরে এক কোটি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী নূর বরিশালে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য হলেন বরিশাল প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু আইফোন কিনতে শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি! বাঁশ কেনার কথা বলে ৫৫ বছর বয়সী নারীকে ধর্ষণ, আটক ১ ঝালকাঠিতে গাছের সঙ্গে মুরগীবাহী পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১ বরিশাল নগরীর ৩০ ওয়ার্ডে নির্মিত হবে ২০টি খেলার মাঠ বরিশালে সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ, ফিরছে সুদিন 
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সংঘর্ষ, আবাসিক হল ভাঙচুর ও সাংবাদিক হেনস্তাসহ বিভিন্ন শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার দায়ে ১৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃতদের মধ্যে ১৭ জনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

    এছাড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছে প্রশাসন।
    বুধবার (১১ জানুয়ারি) গনমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

    তিনি বলেন, গত ৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ ও ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বহিষ্কারাদেশ ৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    ২০২২ সালের ১১ আগস্ট খালেদা জিয়া হলে ছাত্রীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের তাসফিয়া জাসারাত নোলককে দেড় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিককে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় দুইজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিস্কৃতরা হলেন- লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরশিল আজিম নিলয় ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শোয়েব মোহাম্মদ আতিক।

    গত বছরের ৮ অক্টোবর আলাওল হলের প্রভোস্ট কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনায় সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হাসান মাহমুদকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলামকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

    এছাড়া গত ২ ডিসেম্বর চবির এএফ রহমান হলে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া, হলের কক্ষ ভাংচুরসহ মূল্যবান সম্পদ নষ্ট করা ও কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা ও হুমকি প্রদর্শনের ঘটনায় ছয়জনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিস্কৃতরা হলেন- সংস্কৃত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের অনিক দাস, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তনয় কান্তি সরকার, একই শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের লাবিব সাঈদ ফাইয়াজ, ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সিফাতুল ইসলাম, একই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মো. মোবারক হোসেন ও একই সেশনের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের নাহিদুল ইসলাম।

    চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দিবাগত রাত হতে ৬ জানুয়ারি গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী হল ও শাহজালাল হল সংলগ্ন এলাকায় কিছু উশৃংখল শিক্ষার্থী দ্বারা পরিকল্পিতভাবে সংলগ্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেশিয় অস্ত্রসহ সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দোকানপাট ভাঙচুর ও আইন-শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে আরও ছয়জনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে প্রশাসন।

    এ ঘটনায় বহিস্কৃতরা হলেন- ফাইন্যান্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমিরুল হক চৌধুরী, বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাখাওয়াত হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসেন ইলিয়াস, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফাহিম, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইকরামূল হক, দর্শন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নয়ন দেবনাথ।

    শাটল ট্রেনে নাশকতার পরিকল্পনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক সুনাম বিনষ্টের দায়ে আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মো. জোবায়ের হোসেনকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ডিসিপ্লিনারি কমিটির তিন সুপারিশ

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থানকারী যেকোনও মাদকাসক্ত ব্যক্তি, ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন সম্ভাব্য মাদক বিক্রির স্পট এবং মাদক সেবনের স্থানসমূহে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানকারী ছাত্রত্ববিহীন (প্রাক্তন/সাবেক/বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, এমন ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস ত্যাগ করার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা গ্রহণ করা। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত একাধিক ঘটনায় দেখা যায়, কিছু শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসদাচরণ, সন্ধ্যা পরবর্তী/রাতে সংঘর্ষে জড়ানো, অনিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন, বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অন্ধকারাচ্ছন্ন করাসহ সামগ্রিক বিষয়টি ‘ওভার সুপেরিয়রিটি’তে ভোগার শামিল। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া।
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ