ঢাকা সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

ড্রাগন চাষে সফল প্রবাসী পারভেজ

ড্রাগন চাষে সফল প্রবাসী পারভেজ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

পারভেজ মাহমুদ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ইদিলকাঠী গ্রামের রফিকুল ইসলামের পূত্র। ২০২১ সালের ১১ জুন ইউনিয়নের আরজি বাহেরচর মৌজায় নিজের ৬৩ শতাংশ জমিতে প্রায় ২৪শত টি ড্রাগন গাছের চারা রোপন করেন তিনি।

সৎ উপার্জনের উদ্দিশ্যে ইউটিউব ঘেঁটে তিনি ড্রাগন চাষ শুরু করেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে ফুল আসতে শুরু করে। গত ৯জুন প্রথমবারের মত ১০০ কেজি ড্রাগন ফল রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছেন তিনি। প্রতি কেজি ড্রাগন ২৫০শত টাকা দরে বিক্রি করছেন।

এ অঞ্চলে এই প্রথম কোনো প্রকার রাসায়নিক ঔষধ  ছাড়াই নিজের তৈরিকৃত জৈব সার ও জৈব বালাই নাশক  প্রয়োগ করে ড্রাগন চাষ করে সফলতা পাওয়া উপজেলা কৃষি অফিসের প্রসংশা কুড়িয়েছেন।

তার এল আকৃতির  ড্রাগন বাগান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন।  একটি ড্রাগন গাছ বছরে ১০ মাস ফল দেয়। এই বাগান থেকে কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তার বাগানে ৪ টি জাতের বিভিন্ন স্বাদের ড্রাগন গাছ রয়েছে।  
সরেজমিনে দেখা যায়, টক-মিষ্টি ও মিষ্টি স্বাদের ড্রাগন চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের পারভেজ মাহমুদ। প্রতিটি গাছে রয়েছে ফুল, মুকুল এবং পাকা ড্রাগন। বিদেশী ফলের বাগান করে সফলতা পাওয়ায় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি একই বাগানে পেঁপে, ওল কচু, বোম্বাই মরিচ, বেগুন, আলু,কচুসহ বিভিন্ন প্রকার শাক সবজি চাষ করে বাড়তি আয়ের উৎস্য তৈরি করছেন। প্রাকৃতিকভাবে পরাগায়নের জন্য বাগানে স্থাপন করা হয়েছে মৌমাছির কৃত্রিম বাসা। এছাড়া শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য কৃত্রিম ভাবে ড্রাগন ফুলের পরাগায়ন করা হয়। পাশেই তিনি গড়ে তুলেছেন একটি চাইনিজ কমলা ও পেয়ারা বাগান।তার বাগানে দুইজন দিনমজুর প্রতিদিন কাজ করে থাকেন।

নতুন ফল ড্রাগন চাষে সফলতা পাওয়া পারভেজ মাহমুদ জানান, ২০০০ সনে ঢাকার সরকারি বাংলা কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স ও মাষ্টার্স শেষ করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশেই একটি কোম্পানিতে হিসাব রক্ষক হিসাবে কাজ করেন। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যায় ।  ২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরে আসেন। ২০২১ সালে বিদেশে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে থেকেই তিনি ড্রাগন বাগানের সূচনা করেন। এখন তিনি নিজের ৬৩ শতক জমির উপরে বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে তোলেন ড্রাগন খামার।  এ দেশের আবহাওয়ায় লাল, হলুদ এবং সাদা ড্রাগন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী হলেও পাশাপাশি  তিনি গড়ে তুলেছেন লাল ড্রাগনের খামার।

তিনি আরও বলেন, ড্রাগন চাষে বিনিয়োগ একটু বেশি হলেও এখান থেকে বড় কিছু করা সম্ভব। দেশের যুব সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ না গিয়ে দেশেই কর্মসংস্থান তৈরি করে নেওয়া উচিত।  

দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন,  পারভেজ মাহমুদের ড্রাগন বাগান সবার নজড় কেড়েছে। সে প্রবাস জীবন শেষ করে বানিজ্যক ভাবে ফলের চাষ শুরু করেন। তাকে দেখে শিক্ষিত বেকারদের শেখা উচিত। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বানিজ্যকভাবে ড্রাগন ফল চাষে এই উপজেলায় প্রথম পারভেজ মাহমুদ উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তিনি সফলভাবে ফল বাজারজাত করেছেন। আমি তার বাগান পরিদর্শনে গিয়ে অভিভূত হয়েছি। কৃষি অফিস থেকে প্রতিনিয়ত তার বাগানের খোঁজ নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।  আশা করি পারভেজ মাহমুদের বাগান দেখে অনেকই ড্রাগন ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হবে।


আরিফ হোসেন/এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন