বরিশালে দপদপিয়া সেতুতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া সেতুর ঢালে বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত (২১) মারা গেছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হারুন আর রশিদ।
ইয়াসিন আরাফাত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া সেতুর ঢালে যাত্রীবাহী বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইয়াসিন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর নিরাপদ সড়কসহ চার দফা দাবিতে রাত পৌনে ৯টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করেন ববি শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন। এর কিছুক্ষণ পর ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা আবারও মহাসড়ক অবরোধ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—
১. আহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
২. দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে পিচ ঢালাই করতে হবে এবং বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর সড়ক সংস্কার করতে হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে দ্রুত ফুটপাত নির্মাণ করতে হবে।
৪. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মহাসড়কের বেহাল অবস্থা এবং যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার দাবি জানানো হলেও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কারসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কের বেহাল দশা। বিভিন্ন মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এরই কারণে আজ সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা যে চারটি দাবি জানিয়েছি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।
আরেক শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, রাস্তায় আবারও আরাফাতের রক্ত ঝরলো। এ মৃত্যুর দায় রাস্ট্রের নিতে হবে। আমাদের চার দফা দাবি উত্থাপন করেছি, সেগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।
প্রসঙ্গত: রোববার বিকালের এ দুর্ঘটনায় বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা রিফাত (২০) বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও চার যাত্রী শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এইচকেআর