ঢাকা সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

মেয়রের ‍আশ্বাসে শেবাচিমের তালা খুলল ‍ইন্টার্নরা, রাস্তা ছেড়েছে স্বজনরা

মেয়রের ‍আশ্বাসে শেবাচিমের তালা খুলল ‍ইন্টার্নরা, রাস্তা ছেড়েছে স্বজনরা
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

অবশেষে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর হস্তক্ষেপে কর্মবিরতি তুলে নিয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রিয়াদ হোসেন এর স্বজনরাও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে মেয়রের আশ্বাসে ফিরে যান।

এর ‍আগে শনিবার রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভগসহ সবগেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এসময় ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও নিজেদের নিরাপত্তা দাবি তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও হাসপাতারের গেটে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় দূর্ভোগে পড়ে স্বজনরা। হাসপাতালের গেটের সামনে রোগী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককে।

‍একই সময় চিকিৎসা অবহেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ‍আহত যুবকের মৃত্যু ‍এবং প্রতিবাদ করায় স্বজনদের ওপর হামলা ও ‍আটকের প্রতিবাদে হাসপাতাল সংলগ্ন বান্দরোড অবরোধ করেছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে নিহতর স্বজনরা। ‍এর ফলে লঞ্চঘাট-আমতলার মোড় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক ‍আবদুল্লাহ ঘটনাস্থলে পৌছে ‍ইন্টার্ন ‍এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে সাথে কথা বলেন। ‍আগামী ১৬ জুন হাসপাতালে স্বাস্থ্য কমিটির মিটিং  সেখানে ‍এই বিষয়টি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক ‍আবদুল্লাহ বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসক ‍এবং সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যুবকের পরিবারের সাথে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। ‍এর জের ধরে ‍ইন্টার্ন ‍এবং নিহতের স্বজন ও সহপাঠিরা পাল্টা পাল্টি ‍আন্দোলন শুরু করে। ‍আমি ‍উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ‍আমার কথায় ‍আশ্বস্থ হয়ে ‍আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে।

মেয়র বলেন, হাসপাতালে শুধুমাত্র ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের কথা নয়। ‍এখানে সিনিয়র চিকিৎসকদেরও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। কিন্তু সিনিয়র চিকিৎসকরা ছিলেন না। ‍আগামী ১৬ জুন  হাসপাতালে স্বাস্থ্যের মিটিং আছে। ওইদিন পুরো বিষয়টি নিয়ে ‍আমরা তার সাথে কথা বলে ‍এর সুষ্ঠু সমাধান করা হবে।

জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নগরীর মহাবাজ পুলে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কলেজছাত্র রিয়াদ হোসেনসহ তিনজন গুরুত্বর আহত হয়। পরে  দুপুরে ২টার দিকে তাদের ‍উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে সহপাঠিরা। আহতদের হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রিয়াদকে মৃত ঘোষণা করেন।

রিয়াদ বরিশাল ‍ইসলামিয়া কলেজের ‍এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ‍এবং বেলতলা ‍এলাকার মৃত ‍আনসার ‍আলীর ছেলে। ‍এছাড়া ‍আহতরা হলেন- ‍একই কলেজের ছাত্র ‍এবং সহপাঠি হৃদয় ‍এবং ওসমান। তারা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রিয়াদের মৃত্যুর খবরে বিক্ষুব্ধ হয় সহপাঠিরা। তারা সার্জারি ওয়ার্ডের ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কক্ষে হামলা চালায়। কক্ষের জানালা ‍এবং ‍আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। লাঞ্ছিত করা হয় ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকদের।

এসময় হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী ‍আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিহতের স্বজন ‍এবং সহপাঠিদের প্রতিরোধে ‍এগিয়ে ‍এলে তারা পালিয়ে যায়। ‍এর পরপরই ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ডাক দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে শাওন ও ‍আনোয়ার নামের দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ‍আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে, হামলার ঘটনার জের ধরে হামলাকারীদের বিচার ‍এবং ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে রাত ৯টার দিকে কর্মবিরতির ডাক দেয় ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ সকল গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে সকল ধরনের রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ‍এর ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগী ‍এবং স্বজনদের।

এদিকে, নিহতের স্বজনদের ‍আটকের প্রতিবাদে পাল্টা ‍আন্দোলন শুরু করে স্বজন ‍এবং ‍ইসলামিয়া কলেজের সহপাঠিরা। তারা হাসপাতাল সংলগ্ন বান্দরোডে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ ‍এবং বিক্ষোভ শুরু করে। ‍এর ফলে সড়ক লঞ্চঘাট-আমতলার মোড় সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক ‍আবদুল্লাহ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ‍এসময় তিনি হাসপাতালে ‍আন্দোলনরত ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে তাদের ‍আন্দোলন থেকে সড়ে দাঁড়াতে বলেন। ‍এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলে ‍ইন্টার্নরা সকল গেট খুলে দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

অপরদিকে, সড়ক অবরোধকারীদের সাথেও কথা বলেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক ‍আবদুল্লাহ। ‍এসময় তিনি ‍এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান  ‍এবং ‍আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে নিহতের সহপাঠিরা অবরোধ তুলে নেয়।

এদিকে, ‍ইন্টার্ন ডক্টর্স ‍এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাকিন ‍আহমেদ বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছি। নিরাপত্তাসহ ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা ‍এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে ‍আন্দোলন করেছি। পরে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে ‍এসে ‍আমাদের ‍আশ্বস্থ করেছেন। ‍এ কারণে ‍আমরা কর্মবিরতি ‍এবং ‍আন্দোলন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছি।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ‍এইচ.এম সাইফুল ‍ইসলাম বলেন, রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বজনরা ‍ইন্টার্ন চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করেছে। তারা চিকিৎসকের কক্ষে ভাঙচুর করেছে। ‍এর প্রতিবাদে ‍ইন্টার্নরা সকল গেট বন্ধ করে প্রতিবাদ জানায়। পরে মেয়র মহোদয় ঘটনাস্থলে ‍এসে ‍ইন্টার্নদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন বলেন, ঘটনার সাথে সাথে পুলিশের টিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে ‍আসা হয়। পরে ‍ইন্টার্নরা হাসপাতালের গেট বন্ধ করে ‍এবং নিহতের স্বজনরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে বরিশাল সিটি মেয়র মহোদয় ‍এবং পুলিশের ‍ঊধ্র্বতন কর্মকর্তাদের ‍উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‍আসে।
 


এএজে
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন