শেবাচিমের জরুরী বিভাগে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ শুরু করেছে ইটার্ন চিকিৎসকরা।
শনিবার রাতে হাসপাতালের জরুরী বিভগসহ সবগেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে তারা। এসময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও নিজেদের নিরাপত্তা দাবি তুলে স্লোগান দিতে থাকে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও হাসপাতারের গেটে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় দূর্ভোগে পড়েছে রোগী ও স্বজনরা। হাসপাতালের গেটের সামনে রোগী নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককে।
এর আগে দুপুরে নগরীর মহাবাজ পুলে মটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কলেজ ছাত্র রিয়াদ হোসেন গুরুত্বর আহত হলে দুপুরে ২টার দিকে আহত তিন বন্ধুকে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায় তাদের সহপাঠীরা। এরপর তাদের চারতলার সার্জারী ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার সাথে সাথে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রিয়াদকে মৃত ঘোষনা করেন এবং অপর দুইজনের চিকিৎসা শুরু করেন।
পরে রিয়াদের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সহপাঠীরা সার্জারী ওয়ার্ডের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কক্ষে হামলা চালায়। তারা ওই কক্ষের জানালা এবং আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এ সময় নারী ইটার্ন চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করা হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতালের ইটার্ন চিকিৎসক ও আনসাররা প্রতিরোধ গড়লে তারা পালিয়ে যায়।
নিহত রিয়াদ হোসেন নগরের ইসলামিয়া কলেজের এইচএসসি’র প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং বেলতলা এলাকার মৃত আনসার আলীর ছেলে। আহতরা হলেন, একই ক্লাসের হৃদয় ও ওসমান। তারা হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাওন ও আনোয়ারকে আটক করেছে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
ইটার্নী ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাকিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পর তারা হাসপাতাল পরিচালকের নিকট ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারলে তারা কর্মবিরতিতে যাবে বলে হুশিয়ারী দেন।
এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত লোকমান বলেন, ঘটনার সাথে সাথে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এএজে