বরিশাল জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে মহিলা সমাবেশ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং গুজব প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বরিশালে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকালে বরিশাল জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে নগরীর কাশিঁপুরে মহিলা সমাবেশ ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক জাকির হোসেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেণ, বর্তমান সময়ে নেতিবাচক গুজব আমাদের সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এর ফলে মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তবে কোনো একটি বিষয় বা ধারণাকে যাচাই করে তার সত্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মতো মনোভাব মানুষের মধ্যে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ হতে পারে মানুষের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও তার ভাবনা কোনো না কোনোভাবে অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আরেকটি বিষয় হল, কোনো একটি ঘটনার গভীরে প্রবেশ না করে মানুষের সেটিকে হালকাভাবে গ্রহণ করার প্রবণতা। কিন্তু কোনো বিষয়ই যে হালকাভাবে দেখতে নেই।
তিনি আরো বলেন, আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মের লোকেরা মিলেমিশে বসবাস করে। সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতির বন্ধন এক ও অভিন্ন। জাতিতে জাতিতে কোন ভেদাভেদ নেই। রক্তে রক্তে কোন পার্থক্য নেই। অথচ মাঝে মধ্যে কিছু কুচক্রী মহল ও দেশ বিরোধী শক্তি গুজব রটিয়ে ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায়। এসব অপশক্তি থেকে আমাদের সবাইকে দুরে থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফেইসবুকসহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না জেনে কোন কিছু শেয়ার করা ও লাইক দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন ঘটনা দেখলে তা যাচাই করে নিতে হবে। কেননা, সামান্য ভুল থেকে অনেক বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কাশিঁপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মামুন অর রশিদ।
তিনি বলেন, এখন বিজ্ঞানের যুগ। এই আধুনিক সমাজব্যবস্থায় যারা এ ধরনের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় এনে গুজব ছড়ানোর মূল উদ্দেশ্যগুলো চিহ্নিত করতে হবে। অনেক দিন ধরে বাংলাদেশে একটি মহল গুজব ছড়িয়ে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। সময়ের সঙ্গে এর প্রকৃতিও পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে এ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে গুজব প্রতিরোধে কৌশল নিয়ে এখনও তেমন গবেষণা হচ্ছে না। যদি আমরা নিজেদের আধুনিক ও সভ্য মানুষ বলে দাবি করে থাকি তবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে গুজব যেমন প্রতিরোধ করতে হবে, তেমনি গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত ফলাফল থেকে গুজব প্রতিরোধে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তবেই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সচল রাখা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এএজে