ঢাকা সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

বরিশাল নগরী বসবাসের অনুপযোগী হওয়ার শঙ্কা

বরিশাল নগরী বসবাসের অনুপযোগী হওয়ার শঙ্কা
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল নগরীর বর্ধিত জনসংখ্যা এবং শিল্প-যানবাহনের চাপ সামলানোর মত সক্ষমতা যেমন নেই, তেমনি কোন প্রস্তুতিও নেই। সে ক্ষেত্রে এখনো প্রস্তুতি না নিলে এই নগর অচিরেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বরিশালের নাগরিক সমাজ।

মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীঁরবর্তী ডিসিঘাট সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে নাগরিক সংলাপে এমন আশংকা প্রকাশ করা হয়। এ সংলাপের আয়োজন করে ‘পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ’ নামে একটি সংগঠন। এতে নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তি, পরিবেশ সংগঠক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন। তাঁরা পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণে নগরীর যে, সাতটি খাল খননের জন্য বরাদ্দ এসেছে সেগুলোর কাজ দ্রুত শুরু করা আহবান জানান। 

সংলাপে বক্তারা বলেন, কীর্তনখোলা নদীটি বরিশালের প্রাণ-প্রকৃতির আঁধার। অথচ এই নদী এখন দখলদারদের ছোবলে সংকুচিত হচ্ছে। পাঁচ হাজার দখলদার গিলে খাচ্ছে এই নদী। এ ওপরে শিল্প ও প্লাস্টিক এবং অপচশীল বস্তুর দূষণ নদীর প্রতিবেশ ও বাস্ততন্ত্রকে বিষিয়ে তুলেছে। তলদেশে পলিথিনের পুরু স্তর পড়ে গেছে। গবেষণায় এই নদীর ভয়ঙ্কর অ্যান্টিবায়োটিক দূষনের তথ্য এসছে। এ জন্য এই নদীকে সুরক্ষায় এখনই উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কে.এস.এ. মহিউদ্দিন মানিক-বীর প্রতীক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে স্বাগত বক্তব্যে সংলাপের উদ্দেশ্য তুলেন ধরেন উন্নয়ন সংগঠক কাজী জাহাঙ্গীর কবির এবং সভা সঞ্চলনা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী মো. রফিকুল আলম ও নাছির উদ্দিন।

সংলাপে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে, তীরবর্তী এলাকার দখলকারীদের তালিকা প্রণয়ন করে উম্মুক্ত প্রকাশকরা এবং অবিলম্বে দখলমুক্তকরণ, নগরীর মধ্যে থাকা ৮টি লাল তালিকাভূক্ত শিল্প-কারখানাসমূহের তরল রাসায়নিক বর্জ্য যাতে সার্বক্ষণিক তরল বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহারের মাধ্যমে শূন্য নির্গমন করানো ও স্যাটেলাইট মনিটরিং করা, নদী-খালের সিএস মৌজা ম্যাপ ধরে সীমানা নির্ধারণ, প্লাস্টিক ও একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ধারাবাহিক ভাবে শূন্য ব্যবহারে নিয়ে আসা, নগরীর বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নগরীর পুকুর-জলায়ের সংখ্যা নির্ধারণসহ সংরক্ষণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ, উম্মুক্ত উদ্যান স্থান, বিনোদন কেন্দ্র, অগ্নি নির্বাপনের যথাযথ সতর্ককরণ ও দ্রুততার সঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ, ভবন নির্মাণ বিধিবিধান যথাযথ অনুসরণ ইত্যদির সার্বিক পরিস্থিতি সেক্টর ভিত্তিক অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে চিহ্নিতকরণসহ সমাধান।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি চিকিৎসক সৈয়দ হাবিবুর রহমান, অধ্যক্ষ গাজী জাহিদ হোসেন, উন্নয়ন সংগঠক আনোয়ার জাহিদ, কাজী আবুল কালাম আজাদ, রনজিৎ দত্ত, বাংরাদেশ পরিবেম আইনবিদ সমিতির বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন, টুনু রানী কর্মকার, শিবানী চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা মনিরুল ইসলাম খন্দকার, মাহমুদা খানম, হাবিবুর রহমান তালুকদার, সিটি কাউন্সিলর কহিনুর বেগম, উন্নযন কর্মী আশফাকুর রহমান, তুহিন চক্রবর্তী, মজিবুর রহমান খান, এনায়েত হোসেন, বেবী জেসমিন, শুভংকর চক্রবর্তী, কাজী মিজানুর রহমান, আইনজীবী হিরন কুমার দাস প্রমুখ।
 


এএজে
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন