আগৈলঝাড়ায় প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ওই প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয় ও আহত সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভাল্লুকশী গ্রামের কাজী আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে ও সেরাল আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বেপারীর প্রতিবন্ধী স্ত্রী কেয়া বেগমকে (৩৫) তারই আপন বড় ভাই সুজন কাজী মারধর করে আহত করে।
আহত প্রতিবন্ধী স্ত্রী কেয়া বেগম জানান, আমার বড় ভাই সুজন কাজীর মেয়ে সুমনা আক্তারের সাথে ঢাকায় বসবাসরত অপু নামের এক ছেলের সাথে প্রেমের সর্ম্পক চলছিল। সুমনার মোবাইল ফোনে তার এবং তার প্রেমিক অপুর কিছু অশ্লীল ছবি আমি দেখতে পেয়ে আমার মোবাইল ফোনে প্রেরন করি। পরে ওই ছবি আমার বোন কলি বেগম ও ছোট ভাই সজিবকে দেখালে তারা সুমনার বিষয়ে আমার বড় ভাই সুজন কাজীকে বললে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। সুমনা তার বাড়ি থেকে সম্প্রতি তার প্রেমিক অপুর সাথে পালিয়ে যায়। এরই ঘটনার রেশ ধরে রোববার রাতে আমার পিতার ঘরের পাশে মোবাইল ফোনে আমি কথা বলতে ছিলাম। তখন আমার বড় ভাই সুজন লাঠি দিয়ে এলোপাথারি পিটিয়ে আমাকে গুরুতর আহত করে।
আহত প্রতিবন্ধী স্ত্রী কেয়া বেগমের পিতা কাজী আব্দুল কুদ্দুস জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমার বড় ছেলে সুজন আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে লাঠি দিয়ে এলোপাথারি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আমরা কেয়া বেগমকে নিয়ে হাসপাতালে চলে আসি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হোসাইন জানান, প্রতিবন্ধী ওই গৃহবধূকে লাঠি দিয়ে পিটানোর কারনে হয়তো তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গেছে। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে মারধর করার সংবাদ পেয়ে উপপরিদর্শক নুরে আলমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
এইচকেআর