ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেত্রী নাসরিন স্পিকারের সঙ্গে মজিবর রহমান সরোয়ার'র সৌজন্য সাক্ষাৎ ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারকারীরা গণতন্ত্রের শত্রু: আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এখন থেকে রাতের ভোটে কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারবে না: জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭ মঠবাড়িয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য শামিম শাহনেওয়াজের বাবা মজিবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে : ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এসআরবি’র অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ: গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশের গুঞ্জনের মধ্যেই ইশরাকের বার্তা
  • জুমার দিনের মর্যাদা ও ফজিলত

    জুমার দিনের মর্যাদা ও ফজিলত
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়। এই দিনের প্রভূত মর্যাদা ও ফজিলত কুরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যার কারণে দিনটি এত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো; এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করো।’ (সূরা জুমুুআ-৯)

    জুমার দিনে গোসল সেরে আগে আগে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল সা: বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কোরবানি করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিংবিশিষ্ট দুম্বা কোরবানি করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি মুরগি কোরবানি করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কোরবানি করল। পরে ইমাম যখন খুতবা দেয়ার জন্য বের হন তখন মালাইকা (ফেরেশতাগণ) জিকির শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে। (সহিহ বুখারি-৮৮১)

    জুমার সালাতে উপস্থিত হলে এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। এ সম্পর্কে হজরত সালমান ফারসি রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম সা: বলছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য ভালোরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তেল হতে ব্যবহার করে বা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর বের হয় এবং দু’জন লোকের মধ্যে ফাঁক না করে, অতঃপর তার নির্ধারিত সালাত আদায় করে এবং ইমামের খুতবা দেয়ার সময় চুপ থাকে, তাহলে তার সে জুমা হতে আরেক জুমা পর্যন্ত সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (সহিহ বুখারি-৮৮৩)

    হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে আরো বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি গোসল করে জুমার সলাতে এলো, অতঃপর সাধ্যমতো (সুন্নাত) সালাত আদায় করল, অতঃপর ইমামের খুতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকল, অতঃপর ইমামের সাথে (জুমার) সালাত আদায় করল, এতে তার দু’জুমার মধ্যকার দিনসমূহের এবং আরো তিন দিনের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (সহিহ মুসলিম-১৮৭২)

    জুমার দিনে একটি বিশেষ সময় আছে যে সময় বান্দাহ আল্লাহর কাছে যা চাইবে তাই তাকে দেয়া হবে। এ সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল সা: জুমার দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যেকোনো মুসলিম বান্দাহ যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত। (সহিহ বুখারি-৯৩৫)

    জুমার দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম সা: বলেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এ দিন হজরত আদম আ:কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিন জান্নাত থেকে তাকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং জুমার দিনই কিয়ামত সঙ্ঘটিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম-১৮৬২)

    জুমার দিন হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফজিলতের ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, হজরত আওস ইবনে আওস রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে মাথা ও শরীর ধুয়ে উত্তমরূপে গোসল করে জুমার সময়ের প্রথম সময়েই মসজিদে যায়, কোনো বাহনে আরোহণ না করে হেঁটেই মসজিদে যায় এবং ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসে, নিশ্চুপ হয়ে খুতবা শুনে ও কোনো অনর্থক কাজ না করে, তার জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছর আমল করার সওয়াব হবে।’ (সুনানে আন-নাসায়ি-১৩৮৪)


    এমইউআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ