জৈষ্ঠ্যের শুরুর গরমে ওষ্ঠাগত দক্ষিণের মানুষ

বরিশালে গত কয়েক দিন ধরে অসহ্য গরম পড়ছে। জৈষ্ঠ্যের শুরুর তাপে ওষ্ঠাগত প্রাণ। ঘর থেকে বের হওয়া দায়। তাই বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।
দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মাঠকর্মীরা বেলা বাড়ার সাথে সাথে খোঁজেন শান্তির আশ্রয়। কিন্তু সবার কপালে তা জোটে না বলে জানিয়েছেন রিকশাচালক মুজিবুল হক। তিনি বলেন, দুপুরের দিকে খুব গরম পড়ে, ঘামে শরীর একেবারে ভিজে যায়। তখন রেস্ট করার সুযোগ নাই, স্কুল কলেজ ছুটি হলে ছেলে মেয়েরা বের হয় ভালো ভাড়া পাই।
বেসরকারি চাকুরিজীবী সিরাজুল ইসলাম জানান, তীব্র তাপদাহ চলছে, বিদ্যুৎ নেই, তবুও অফিসে ঠাণ্ডা জায়গায় আছি। কিন্তু কষ্ট হচ্ছে ওই সব মেহনতি মানুষের জন্য, যারা জীবন জীবিকার জন্য এই তীব্র গরমের মাঝেও মাঠে-ঘাটে-রাস্তায় নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
এদিকে তীব্র গরমে স্কুলে যাওয়া ও আসার সময় রোদে পুড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। নওগাঁ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহিন জানান, এখন গ্রীষ্মকাল প্রচন্ড গরম পড়ছে। অথচ আমরা গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ছুটি পাচ্ছি না। ছুটির তালিকায় দেখলাম গ্রীষ্মকালীন অবকাশের ছুটি ৩ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত।
অভিভাবক গাজী এমএ জলিল বলেন, যেভাবে তাপদাহ চলছে তাতে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া আসা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় তাপদাহের হাত থেকে তাদেরকে রক্ষার জন্য স্কুলগুলোতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি দেয়া যায় কিনা, তা ভেবে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার রায় বলেন, এখন যে তাপমাত্রা আছে অন্যান্য বছরে একই সময়ে আরো বেশি তাপমাত্রা ছিল, এটা যে খুব অস্বাভাবিক সেটা কিন্তু না। তবে জ্যৈষ্ঠের শুরু অর্থাৎ ১৫ মে থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আজ ১৮ মে (বুধবার) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
বর্তমান পরিস্থিতি বেশি দিন থাকবেনা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সাধারণত জুনের আট থেকে দশ তারিখের মধ্যে রানসেট করে। ফলে বৃষ্টি হবে এবং তাপমাত্রা কমে আসবে।
এবছর মার্চ মাসের ১৬ তারিখে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এইচকেআর