দেশের মানুষ এখন দুঃসময়ের জীবন পার করছে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম বলেন, দেশের মানুষ এখন দুঃসময়ের জীবন পার করছে। সরকার হচ্ছে মত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করছে। সাধারণ মানুষ না পারছে কিছু করতে, না পারছে সহ্য করতে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, সরকারের ভুল মুদ্রানীতি, শুল্কনীতি, আমদানি সিদ্ধান্তের অপরিণামদর্শিতা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। লাগামহীন বৃদ্ধি দেশে এক ধরনের দুর্ভিক্ষের জন্ম দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যাচ্ছে। খাবারের জন্য মানুষ টিসিবির ট্রাকের পেছনে দৌড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অর্থেই কৃত্রিম। তা বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা ও তাদের দলীয় লোকদের নির্লজ্জ লোভের ফসল।
বুধবার (১৮ মে) বেলা সাড়ে ১২টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব সভাকক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চরমোনাই পীর।
এছাড়া ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ২০ মে শুক্রবার জুমু’আ বরিশাল বিভাগীয় মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
১৫ দফা দাবি সমূহের মধ্যে রয়েছে—যেকোনো মূল্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা ও বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, মদসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ, কারান্তরীণ সব মজলুম আলেম এবং রাজবন্দির মুক্তি, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া ও তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা, নির্বাচনের দিন সশস্ত্র বাহিনীর হাতে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া, নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি; রেডিও-টিভিসহ সব সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমের সবাইকে সমান সুযোগ এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা, দুর্নীতিবাজদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখা, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সভা-সমাবেশসহ সাংবিধানিক স্বীকৃত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বাক-স্বাধীনতা উন্মুক্ত করা।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, এসব দাবি না মানলে সরকারকে চেয়ার থেকে টেনে নামানোর আন্দোলন শুরু হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেই দাম বাড়ে বলে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে। সরকারি দলের সমর্থনপুষ্ট মধ্যস্বত্বভোগীরা স্তরে স্তরে দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করে। পথে-ঘাটে পুলিশ ও স্থানীয় মাস্তানরা চাঁদাবাজি করে। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করার ক্ষেত্রে সরকারঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের কারসাজি করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে।
তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে দেশের খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ, বিতরণ ও সংরক্ষণসহ প্রতিটি স্তরে মধ্যস্বত্বভোগীদের উৎপাত কঠোর হাতে দমন করতে হবে। টিসিবিকে শক্তিশালী করে দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সিন্ডিকেটবাজি বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। সরকার এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, দশ টাকায় চাল খাওয়ানোর কথা বলে ক্ষমতায় এসে আজ দুর্ভিক্ষ তৈরি করা হয়েছে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে সব সীমা ছাড়িয়েছে যা রাষ্ট্রপতি, পরিকল্পনামন্ত্রীদের কথাতেই প্রমাণিত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মাওলানা নাসির আহমেদ কাওসার, মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী, সদস্য সচিব উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা মো. জামিলুর রহমান, প্রচার সেলের আহ্বায়ক মাওলানা মো. আবুল খায়ের, প্রচার সেলের সচিব মো. কাওসারুল ইসলাম প্রমুখ।
এইচকেআর