আগ্রহ নিয়ে বসে থেকেও মেলেনি টিসিবির পন্য

সারা দেশে যখন ভোজ্য তেল নিয়ে হৈ চৈ চলছে ঠিক তখনি টিসিবি’র ট্রাকে ১১০ টাকা লিটারে সয়াবিন তেল কিনতে বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মানুষ। কিন্তু সাধারন মানুষের আশা পুরন হলো না। কেননা এখনি দেয়া হচ্ছেনা টিসিবি পন্য। বাজারে ১৯৮ টাকা লিটার হলেও টিসিবি’র ট্রাকে তেল বিক্রি হবে মাত্র ১১০ টাকায়। তার মানে ৮৮ টাকা কমে মিলবে প্রতিলিটার সয়াবিন তেন। আর তাই সাধারন মানুষের আগ্রহটা ছিল একটু বেশিই।
পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টিসিবির ট্রাকে ১১০ টাকায় প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রির ঘোষণা দিলেও রোববার রাতে তা স্তগিত করে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ট্রাকে নয় ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বিক্রি হবে টিসিবির ১১০ টাকা মূল্যের সয়াবিন তেল।
এদিকে সময় নির্ধারনের পর টিসিবি পন্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারন মানুষ। অনেকেই স্তগীতের ঘোষনা সম্পর্কে জানেনা বলেও অভিযোগ করেন।
জানাযায়, রোজার আগে এক দফা বৃদ্ধির পর বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বাজারে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পরে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমিয়ে সরকার প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৬০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এরপর ঈদের আগে হঠাৎ বাজারে আবার সয়াবিন তেলের সংকট শুরু হয়। এ সময় বাজারে সয়াবিন তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। পরে ৫ মে বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে মিল মালিকদের বৈঠকের পর বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম নতুন করে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
টিসিবি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিক্রয় কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার নীতিগতভাবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, চিনি) বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশন বলছে, এই মাসে পন্য সামগ্রী বিক্রি করা হবে না আসামি মাস থেকে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বরিশাল কার্যালয় বলছে, পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত টিসিবি পন্য ট্রাক সেল হবে কিনা তা এখনি বলা যাচ্ছে না।
টিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে শুধু ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমেই টিসিবির পণ্যসামগ্রী বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নিমিত্তে চলতি মাসের সাধারণ ট্রাক সেল কার্যক্রম (১৬-৩০ মে) স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে ১৬ মে সোমবার থেকে পূর্ব ঘোষিত ট্রাকে ১১০ টাকায় প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রির ঘোষণায় বরিশালের বিভিন্ন এলাকার সাধারন মানুষকে টিসিবির ট্রাক খুজতে দেখা গেছে। নগরীর বেশিরভাগ মানুষই জানেনা এই কার্যক্রম স্তগিত হওয়ার কথা। আর এতে করে হয়রানীর সিকার হয়েছেন অনেকে। সোমবার বরিশাল নগরীর পাঁচটি স্পটে টিসিবির ন্যজ্যমূল্যে পন্য বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় অনেকেই হতাশাগ্রস্থ হয়েছেন। অনেকে অভিযোগ করেন দির্ঘদিন যাবত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অফিস থেকে ভোটার আইডি কার্ড, ছবি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত দিনেও কার্ড পায়নি নগরবাসী। এতদিন ট্রাকের পেছনে লাইনে দাড়িয়ে টিসিবি মালামাল কিনেছেন ভুক্তভোগীরা। আর এখন ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কত দিন অপেক্ষা করতে হবে তা নিয়েও রয়েছে সংসয়।
বরিশাল নগরীর আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা সোহরাব মিয়া বলেন, টিসিবিতে একটু কম দামে তেল পাওয়া যায়, আমাদের মত গরীব মানুষ বেশি দাম দিয়ে তেল কেনার সামর্থ কই। তাও এখন বন্ধ করা হয়েছে। এক মাস পর তেল দিয়ে কি করবো।
শারমিন বেগম নামের এক গৃহীনি বলেন, চিনি আর ডালের চেয়ে তেলই বেশি প্রয়োজন। কবে ফ্যামিলী কার্ড পাব সেই আশায় বসে থাকলেতো আর সংসার চলবে না।
টিসিবির কার্যক্রম কবে শুরু হবে জানতে চাইলে টিসিবির বরিশাল অফিসের সহকারী বলেন, কবে নাগাদ শুরু হবে তা এখনই বলা যাচ্ছেনা। আর কার্ড ছাড়া ট্রাক সেল দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে এখনও কোন নির্দেশনা আমরা পাইনি।
বরিশাল সিটি কপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানান, বরিশাল সিটি কপোরেশনের ৯০ হাজার পরিবারকে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পন্য বিক্রি করা হবে। এর জন্য এই মাস (মে) পর্যন্ত সময় লাকগে। আসামি জুন মাসের মধ্যে কার্ড প্রদান সম্পন্ন হবে। এর জন্য বরিশাল সিটি কপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় কাজ করছে।
এদিকে, সারা দেশের ন্যায় বরিশালেও টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাক সেলের ডিলার নগরীতে সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল বিক্রি করবে। এ কার্যক্রম ৩০ মে পর্যন্ত চলার কথা ছিল।
পূর্ব ঘোষণায় আরো বলা হয়, টিসিবির ট্রাক থেকে সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১১০ টাকায়, চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় ও গত মাসের অবশিষ্ট ছোলা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হবে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, দুই কেজি চিনি, দুই কেজি ডাল ও চাহিদা অনুসারে ছোলা কিনতে পারবেন।
এএজে