ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • ইসলামী আন্দোলন বরগুনার সভাপতি হলেন অলি উল্লাহ বরগুনায় ১৭ লাখ টাকার ৬৯০ কেজি নিষিদ্ধ শাপলা পাতা-গিটার মাছ জব্দ ওমান উপকূলে ছড়িয়ে পড়েছে তেল, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা লোডশেডিংয়ের সমাধান নিয়ে মন্ত্রী বললেন, আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই ফখরুল রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, রাতারাতি বদলে গেলো তিন মন্ত্রণালয়ের সমীকরণ সেরা ‘সড়ক যোদ্ধা সম্মাননা’ জুবায়ের ইসলাম চৌধুরী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ২৮মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড আগৈলঝাড়ায় শাপলা বিক্রি করে দিনে আয় ৩ হাজার টাকা বরিশাল রেঞ্জের নতুন ডিআইজি জুলফিকার আলী হায়দার চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি আর নেই
  • বছরের ৩৬৫ দিনের ১৮৪ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

    শুধু চালে চলেনা জেলেদের সংসার

    শুধু চালে চলেনা জেলেদের সংসার
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১৮৪ দিন ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকতে হয় বাংলাদেশের জেলেদের। এই নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ ধরা, ক্রয় বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত।  

    আর জেলেরা যাতে এই সময়ে বাড়িতে থেকে পরিবার নিয়ে থাকতে পারে সে লক্ষ সরকার জেলেজের কার্ডের মাধ্যমে ভিজিএফের চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাগরে মাছ ধরতে যায় অনেক জেলে।

    আর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় জেলেদের জেল জড়িমানার আওতায় আনছে প্রশাসান। এছাড়াও জাটকা ইলিশ নিধন রোধে প্রশাসনের অভিযানে জেলেদের হামলার ঘটনাও ঘটেছে।  গত বছর উপকূলের ১৪টি জেলার ৬৬টি উপজেলায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯৫টি জেলে পরিবার ৫৬ কেজি করে চাল পেয়েছিলেন।


    তবে জেলেদের দাবি সরকার তাদের যে পরিমান খাদ্য সহয়তা দেয়া হচ্ছে তা সামান্য মাত্র। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে কয়েক ধাপে  ১৪৮ দিন নিষেধাজ্ঞা কবলে পড়ায় লাখো জেলে ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পরছে। জেলেরা যে সরকারি সহায়তা পান তা অপ্রতুল। আবার অনেক জায়গায় জেলেরা সরকারি বরাদ্দের চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর একারনেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পেটের দায়ে অনেক জেলে সাগে র মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু চাল খেয়েই পারিবার বাঁচেনা জানিয়ে জেলেরা জানান, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, ডাক্তার সহ একটি সংশারে অনেক খরচ থাকে সেই খরচ যোগাবো কিভাবে?


    জানাযায় দেশের সামুদ্রিক  মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও মাছের বংশবিস্তারে সুযোগ দিতে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় উপকূলের লাখো সমুদ্রগামী জেলেদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। এই নিষেধাজ্ঞা  শুরু হবে আগামী ২০ মে থেকে এবং তা আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।


    মা ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরায় ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা, মার্চ এপ্রিলের দুই মাসের অভয়ারণ্যের নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে না হতেই আবার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাঁরা দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। 


    বিশেষজ্ঞরা বলছে, সাগরে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ৬৫ দিন দরকার আছে কি না, তা বৈজ্ঞানিকভাবে বিচার–বিশ্লেষণ করে দেখা উচিত। কারণ, প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ১৫ এপ্রিল থেকে ৪৫ দিন পযন্ত। প্রতিবেশী দেশের সমুদ্রে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ যখন শেষ হয় তখন আমাদের দেশে তা শুরু করায় সব সময়ই জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আসছেন ভারতের জেলেরা আমাদের সমুদ্রসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরে নিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে দেশে এই সময়সীমা ১ মে থেকে ৩০ জুন করা হলে তা বেশি কার্যকর হতে পারে।


    নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এমন উদ্বেগ কেবল জেলেদেরই নয়, সমদ্র্রগামী ট্রলার মালিক, সামুদ্রিক মৎস্যকেন্দ্রীক ব্যবসায়ীদেরও মধ্যেও এমন উদ্বেগ আছে।


    পাথরঘাটা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার দাবি করে আসছি। গরিব জেলেরা সাগরে নামতে না পারলে খাবেন কী ? তাই বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে অনেক জেলে জেল-জরিমানার ভয় উপেক্ষা করেন। তবে বেশির ভাগ জেলে ও ট্রলারমালিক আইন মেনে সাগরে যান না।


    তিনি বলেন, আমাদের জেলেরা যখন পেটে পাথর বেঁধে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকে তখন প্রতিবেশী দেশের জেলেরা আমাদের সমুদ্রসীমা এমনকি পটুয়াখালীর সোনারচর, পশ্চিম সুন্দরবন পর্যন্ত ট্রলার নিয়ে ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। তাহলে আমাদের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কেন কষ্ট দেওয়া হচ্ছে?


    জানাযায়, বঙ্গোপসাগরে প্রতিবছর ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ। ২০১৫ সালে এই নিষেধাজ্ঞা চালু হয়। শুরুতে শুধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলার এর আওতায় থাকলেও ২০১৯ সালে সব ধরনের নৌযানকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।


    মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, সরকার এই নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেয়। গত বছর  জেলেদের জন্য ১৬ হাজার ৭২১ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর আওতায় উপকূলের ১৪টি জেলার ৬৬টি উপজেলায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯৫টি জেলে পরিবার ৫৬ কেজি করে চাল পেয়েছিলেন।


    মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ পরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার বলেণ, এবারো এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে চাল সহায়তা দেওয়া হবে। ভূক্তভোগী জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় যে চাল দেওয়া হয়, তাতে এক মাসেরও খোড়াক হয় না।


    জেলে মোস্তফা মিয়া (৫৫)  বলেন, ‘আমি ও আমার চাইর পোলা জাইল্লা। কিন্তু আমরা সরকারের চাউল পাই না। য্যাগো অবস্থা ভালো হ্যাগো চাউল দেয়। এইডা ক্যামন বিচার ? উপকুলের বেশিরভাগ এলাকায় জেলেদের চাল বরাদ্দের কার্ড বিতরনে অনিয়ম থাকায় প্রকৃত জেলেরা চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চলতি বছরেরর শুরুর দিকে বরিশালের বানারী পাড়ায় জেলেরা চাল তিবরন নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে জনপ্রতিনিধিরা বলছে তারা সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরন করেন। 


    সুত্রে জানাগেছে, সরকারি-বেসরকারি ভালো ব্যবস্থাপনা এবং মৌসুম ধরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে দেশে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন অনেক বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশই উৎপাদিত হচ্ছে এই দেশে। চার বছর আগে এই উৎপাদনের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ লাখ  ৬৫  হাজার মে.টন ইলিশ  আহরিত হয়েছে। এক্ষেত্রে জেলে ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় কিছু সুপারিশ এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে, সাগরের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ, সহায়তার চাল বৃদ্ধি করে ৬৫ কেজি করা, জেলেদের দুই মাসে অন্তত ২ হাজার টাকা নগদ সহায়তা প্রদান এবং এসব সহায়তা প্রকৃত জেলেদের বিতরণের ব্যবস্থা করা ও সহায়তা প্রদানে দুর্নীতিরোধ করা।
     


    এএজে
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ