কারাগারের চার দেয়ালে বন্দী শিশু মুজাহিদ

মুজাহিদুল ইসলাম। বয়স কেবল মাত্র এক বছর ৬ মাস। খালিগায়ে মায়ের কোলে চেপে থানায় এসেছেন। আর একমাত্র পুত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে মা লাবন্য (১৯) শাশুড়ি হত্যার দায়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেছেন।
অবুঝ শিশু মায়ের গোমরা মুখের দিকে তালিয়ে কি যেন বলতে চায়। তার মায়ের হাতেই খুন হয়েছেন মুজাহিদের দাদী। এই কথাটা মুজাহিদ এখনো বুঝতে পারছেনা। অথচ মায়ের অপরাধে শিশুকালেই কারাগারের চার দেয়ালে বন্দী জীবন শুরু হলো মুজাহিদ।
ঘটনাটি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। মুজাহিদের দাদী নাজনীন বেগম (৫০) কে তার মা লাবণ্য জবাই করে হত্যা করেছে। এঘটনার পর পুলিশ লাবন্য আক্তার (২১) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় লাবণ্যের সাথে তার এক মাত্র ছেলে সন্তান মুজাহিদ ছিল। ছেলেকে সহই থানায় নিয়ে যাওয়া হয় লাবণ্যকে।
এমনকি পরে নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন লাবণ্য আক্তার। পরে বিচারক তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আর সেই সাথে অবুঝ শিশু মুজাহিদও বাবা আর স্বজনদের ভালবাসা আর শৈসব বঞ্চিত হয়ে কারাগারের চার দেয়ালে মায়ের সাথেই বেড়ে উঠবে।
মুজাহিদুল ইসলাম এখনও তার মায়ের বুকের দুধ পান করছে। বিষয়টি বিবেচনা করে আদালতের নির্দেশে মুজাহিদুল ইসলামকে তার মায়ের সাথে জেল হাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সত্য রঞ্জন খাসকেল।
এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া গ্রামে ঘুমন্ত শাশুড়িকে জবাই করে হত্যা করে গৃহবধূ। ঘাতক গৃহবধূ লাবণ্য নিহতের ছেলে উজ্জল হাওলাদারের স্ত্রী
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শাশুড়ির সাথে ঘাতক গৃহবধূর বাবার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলে স্বীকার করেছে গৃহবধূ। তবে শাশুড়ির মদদে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বদ্বের জেরেই এই হত্যাকাÐ ঘটেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন লাবন্য আক্তার।
বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সত্য রঞ্জন খাসকেল ঘাতক গৃহবধূর আদালতে দেয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে বলেন, ‘তিন বছর পূর্বে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কুশঙ্গাল গ্রামের মো. খলিল হাওলাদারের মেয়ে লাবন্য আক্তার ও বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী গ্রামের উজ্জলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্ত জীবন কলহে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ‘উজ্জল জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন। সেখানে একটি চাকরি করেন। ছয় মাস বা এক বছর পরে তিনি বাড়িতে আসতেন। আর গৃহবধূ লাবন্য গ্রামে শাশুড়ির সাথে এক বাড়িতে বসবাস করতেন। তবে লাবন্য তার স্বামীর সাথে ঢাকায় থাকার জন্য বায়না ধরেন। কিন্তু উজ্জল তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি দেড় বছরের শিশু সন্তানের দুধ এবং খরচের টাকাও দিতেন না তিনি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। তার ওপর স্বামীর অবর্তমানে শাশুড়ির সাথে বনিবনা হচ্ছিল না লাবন্যের। প্রায় সময় তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। সেই ঝগড়াই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ালো দেড় বছরের শিশু মুজাহিদের।
এএজে