আগৈলঝাড়ায় তেলের বাজারে তেলেসমতি

সরকার সম্প্রতি সয়াবিন তেলের নতুন বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করলেও সেই নতুন মূল্যেও আগৈলঝাড়ার বাজার গুলোতে মিলছে না সয়াবিন তেল। তেলের তেলেসমতিতে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে অস্থিতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রমজানের শুরুতেই সয়াবিন তেল নিয়ে ডিলারদের তেলেসমতির শেষ পর্যায়ে এসে ঈদের আগে বাজার থেকে প্রায় এক প্রকার উধাও হয়ে যায় সয়াবিন তেল। ঈদের সময়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট বাজারে উধাও হওয়া সয়াবিন তেল এখন দুস্প্রাপ্য বস্তুতে পরিনত হয়েছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে তেলের বাজারের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা তেলের দুস্প্রাপ্যতার জন্য ডিলারদেরই দায়ী করছেন।
গত ৫মে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচার অ্যাসোসিয়েশন তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। তাদের নির্ধারিত মূল্যে পরিশোধিত ১ লিটার (খোলা/লুচ) সয়াবিন তেলের খুচরা বাজার মূল্য ১৮০টাকা, পরিশোধিত ১লিটার সয়াবিন (প্যাকেট) খুচরা বাজার মূল্য ১৯৮টাকা, ৫লিটার সয়াবিন (প্যাকেট) খুচরা বাজার মূল্য ৯৮৫টাকা, পরিশোধিত (খোলা) পাম সুপার ১লিটার ১৭২টাকা নির্ধারণ করেছে।
বিশ^ বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধির তত্ব তুলে দেশের বাজারে সয়াবিনের মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও সেই বর্ধিত মূল্যেও কোন বাজারে মিলছে না সয়াবিন তেল। বিশেষ করে ৫লিটার সয়াবিনের কোন কোম্পানীর প্যাকেট এখন বাজারের কোন দোকানে পাচ্ছে না ক্রেতারা।
নাম না প্রকাশের শর্তে উপজেলার অন্যতম পাইকারী ব্যবসায়ী বন্দর ‘পয়সারহাট’ বন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এখন বাজারে ভোজ্য তেলের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তা প্রতি টনের আমদানি মূল্য চার্জসহ ২ হাজার ১শ ডলার হিসেবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ১হাজার ৯শ ৭ ডলার। আর দেশে যে তেল আছে, তা বছরের শুরুতে এলসি খুলে আমদানি করা তেল। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টনের দাম ছিল ১ হাজার ৬শ ডলার। সরকার নতুন করে তেলের যে মূল্য নির্ধারন করেছে তা কার্যকর হতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগার কথা। কারন নতুন মূল্যের তেল দেশে আমদানী করতে উল্লেখিত সময় লেগে যাবার কথা। তার আগেই তেল আমদানীকারক ব্যবসায়ীদের অধিক মুনাফা লোভের কারণে তেলের বাজারে এখন আগুন লেগেছে। প্যাকেট সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে ৩৮ টাকা বেড়ে সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ওই ব্যবসায়ী। যা দরিদ্র ও মধ্যবিত্তর জন্য একটি বড় ধরনের বিড়ম্বনা।
ক্রেতা হাবিবুর রহমান, মিজান আকন, রিপন সরদার অভিযোগ করেন, রমজানের সময় থেকে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যায়নি। গত এক মাস যাবত ৫ লিটার তেলের প্যাকেট উধাও রয়েছে। প্যাকেটের চেয়ে খোলা তেলের দাম বেশী পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ীরা রমজানে প্যাকেট তেল ভেঙ্গে খোলা তেল হিসেবে তা বিক্রি করছেন। গতকাল রোববার রাজিহার বাজারে খোলা সয়াবিন ২০৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্যাকেট তেল দোকানে নেই। আবার সদর বাজারে ৫ লিটার সয়াবিন ৮শ টাকায়ও বিক্রি করতে দেখা গেছে।
গৈলা বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী সেলিম সরদার অভিযোগ করে বলেন, রমজানের সময় বিভিন্ন নামী-দামি কোম্পানীর তেল চাইলে তাদের তেলের সাথে ওই সকল কোম্পানীর আটা, ময়দা, সুজি থেকে শুরু করে রান্নার মসলা পর্যন্ত অর্ডার দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তার পরেও চাহিদার তেল তাদের সরবরাহ করতে পারেনি ডিলাররা। বাজারে কবে নাগাদ পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছেন না তারা।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সরকার নতুন করে তেলের যে মূল্য নির্ধারন করেছে তা কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। কোন ব্যববসায়ী সরকার নির্ধারিতর বেশি দামে তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসএমএইচ