বরিশালে মহিলাদলের পদ বঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলন

অযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে বরিশাল মহানগর মহিলা দলের কমিটি ঘোষনা করার প্রতিবাদে ও কমিটি প্রত্যাখান করে পুনরায় গঠনের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সাবেক মহানগর মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (৬ মে) সকাল ১০ টায় বরিশাল নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া হাজেরা খাতুন স্কুল সড়কস্থ সাবেক বিসিসি প্যানেল মেয়র ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শরীফ তাসলিমা কালাম পলি তার নিজ বাস ভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ।
লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, গত ১লা মে বরিশাল মহানগর মহিলা দলের আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়। কমিটিতে বরিশাল জেলা (দক্ষিন) মহিলা দলের সদ্য সাবেক সভাপতি ফারহানা তিথিকে মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ও পাপিয়া পারভিনকে সাধারন সম্পাদক করা হয়। আমরা বরিশাল মহানগর মহিলা দল যারা দীর্ঘদিন যাবৎ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং সু-চিকিৎসার আন্দোলন ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশে গনতন্ত্র পুন-প্রতিষ্ঠার সকল আন্দোলন সংগ্রাম রাজপথে ছিলাম। আমাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটিতে মহানগর মহিলা দলের একজন সদস্যকে স্থান না দেওয়ায় আমরা মনে করি এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়নি।
এর কারন হলো আমরা দেখেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মহিলা দলের কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক যথাস্থানে কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে রাজপথের ত্যাগী, নির্যাতিত, বিভিন্ন হামলা-মামলার স্বীকার, কারাবরনকারী নেত্রীদের দিয়ে কমিটি ঘোষনা করেন। কিন্তু বরিশাল মহানগর মহিলা দলের কমিটির ক্ষেত্রে এর সম্পূর্ন ব্যাতিক্রম হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক দফায় দফায় কয়েকবার বরিশালে মহানগর মহিলা দলের কর্মী সম্মেলন করা হলেও তারা সম্মেলন শেষে কমিটি দিতে ব্যার্থ হন।
গত কিছুদিন পূর্বে বরিশাল মহানগর মহিলাদলের পুনরায় কর্মী সম্মেলন হয়, যেখানে বর্তমানে যাকে মহানগর মহিলা দলের সভাপতি করা হয় তিনি কোনও প্রার্থীই ছিলেন না, কারণ তিনি জেলা মহিলা দল করতেন। বর্তমান মহিলা দলের সভাপতি যাকে করা হয়েছে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার খুবই অল্প। কি করে একজন জেলা মহিলা দলের সভাপতিকে মহানগরে পুনরায় সভাপতি করা হয় তা আমাদের বোধগম্য নয়, পাশাপাশি মহানগর মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক যাকে দেয়া হয়েছে তার নামে কোন একটি মামলা নেই ও একদিনও কারাবাস করেনি। আমরা যারা দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি তাদের কাছে এই কমিটি হাস্যকর ও অযোগ্য বলে মনে হচ্ছে ।
সাবেক প্যানেল মেয়র বলেন, আপনারা জানেন আমি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে দুই বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর, তার মধ্যে একবার প্যানেল মেয়র ও বরিশাল তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে আমি প্রথম নারী প্যানেল মেয়র, এবং মেয়রের দায়ীত্বও পালন করেছি। বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার কারণে ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হতে পারিনি। দীর্ঘ এক মাস একদিন কাউন্সিলর থাকা কালিন কারাবরন করি। ২০১৫ সালে এবং ২০১৮ সালে আমি আমার কনিষ্ঠ ছেলে মা-ছেলে সহ ২৮ দিন একসাথে কারাবরন করি যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। যা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবগত আছেন। তিনি এক ভিডিও কনফারেন্সে সকলের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন মা ও ছেলে একসাথে একই মামলার আসামী ও জেল খেটেছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে হয় এই প্রথম।
মহিলা নেত্রী শরীফ তাসলিমা কালাম পলি বলেন, আমিসহ যারা ইতি পূর্বে মহানগর মহিলা দলে ছিলাম কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এ্যড মজিবুর রহমান সরোয়ারের সমর্থন করা ও এক নেতার লোকের অজুহাত দেখিয়ে আমাকে কমিটির কোনো পদে রাখা হয়নি। শুধু আমি নই আমার মত যারা আরো মহিলা নেত্রী রয়েছেন সকলের ক্ষেতেই এমন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে ও বর্তমান কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড,মজিবর রহমান সরোয়ার বরিশাল মহানগর সভাপতি, সাবেক হুইপ ও মেয়র তিনি একাই ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘ দশ বছরের বেশি বরিশাল মহানগর মহিলা দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি যেমন ছিলনা তেমনি আমাদের পরিচালনা করার মত আমাদের পাশে কোন নেতৃত্ব না থাকার কারনে আমাদের যেকোন সিদ্ধান্তের জন্য তার কাছে যেতে হয়েছে বলেই কি আমাদের অপরাধ। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহনগর মহিলা দলের সাবেক নেত্রী আফরোজা পারভিন, রাবেয়া পড়শি, ছালমা, আইরিন, পারভিন বেগম, মিম আক্তার, মালা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এব্যাপারে নবগঠিত মহানগর মহিলাদল সভাপতি অধ্যাপিক ফারহানা তিথির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমিতো এখন কাউকে বাদ দেই নাই ও দল করতে চাই না। আমি দলের সকলকে মিটিংয়ে ডাকব তারা দীর্ঘদিন দলের কাজ করছে এখনও করবে তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মেনে তাদের কাজ করতে হবে। এখানে তিনি প্রেস কনফারেন্স করে দল ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ভাবমূর্তি ক্ষূর্ণ করা একদম ঠিক হয়নি বলে আমি মনে করি।
এইচকেআর