বরিশাল থেকে শুরু হয়েছে কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধ

ঈদের ছুটি কাটিয়ে এবার বরিশাল থেকে শুরু হয়েছে কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধ। বিশেষ করে ঈদের পরেরদিন থেকেই চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে বরিশাল নদী বন্দর। যা বৃহস্পতিবার থেকে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল নদী বন্দরে দেখা গেছে, বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের ছয়টি লঞ্চ বার্দিং করে রাখা হয়েছে পল্টুনে। এসব লঞ্চে পছন্দসই জায়গা করে নিচ্ছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে লঞ্চের ডেকে যাত্রীর সংখ্যাই বেশী।
সূত্রমতে, পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের ছুটি শেষে সরকারি অফিস খুলেছে ৫ মে (বৃহস্পতিবার)। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ছুটি শেষ হয়েছে বুধবার (৪ মে)। এর আগের দিন মঙ্গলবার দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উদ্যাপিত হয়েছে। গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল ছিলো সপ্তাহিক ছুটি। এরপর ১ মে ছিল মে দিবসের ছুটি। এরপর ২, ৩ ও ৪ মে ঈদের ছুটি কাটিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার একদিন অফিস খোলা থাকার পর আবার দুইদিন (৬ ও ৭ মে) সাপ্তাহিক ছুটি। তাই যারা ৫ মে ছুটি নিয়েছেন তারা টানা নয়দিনের ছুটি পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে তাদের আগামী ৮ মে (রবিবার) অফিসে যোগদান করতে হবে। তাই ঢাকার বাহিরে ঈদ করতে আসা সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেশির ভাগই ৫ মে ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন।
তবে যারা ছুটি না পেয়েও নারীর টানে বরিশালে ঈদ করতে এসেছেন তাদের অনেকেই বৃহস্পতিবার অফিসে যোগদান করেছেন। এ কারণেই ঈদের পরেরদিন (বুধবার) থেকেই বরিশাল নদী বন্দর এবং পরিবহনে যাত্রীদের চাঁপ ছিলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই বছর করোনা মহামারীর বিধিনিষেধের কারণে ঈদযাত্রা বাধা পরে। এবার সবার জন্য সে সুযোগ ছিল উন্মুক্ত। লঞ্চ এবং নদী বন্দর সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, এবারের ঈদে কয়েক লাখ মানুষ বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে এসেছেন স্বজনদের সাথে ঈদ উদ্যাপন করতে।
বরিশাল নদী বন্দরে ঢাকায় যাত্রা করতে অপেক্ষমান গৃহবধূ মমতাজ বেগম বলেন, ৪ মে ঈদের ছুটি শেষ। তাই ৫ মে কর্মস্থলে হাজিরা দিতে হবে। তাই আগেভাগেই (বুধবার) বরিশাল ত্যাগ করছি। মিরন আহমেদ নামের অপর এক সরকারি কর্মচারী বলেন, বিগত দুইবছর পর পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদ করতে বরিশালে এসেছি। কিন্তু অফিস খুলছে বৃহস্পতিবার। তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের রেখে একাই ঢাকায় যাচ্ছি। পরিবারের অন্য সদস্যরা ঈদে যাত্রীদের চাঁপ কমলে ঢাকায় ফিরবেন।
এইচকেআর