ঈদে কদর বেড়েছে টুপি ও আতরের

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। ঈদকে ঘিরে বেড়েছে কেনাকটা। বরিশালের মার্কেটগুলোতে এখন নতুন পোশাক কেনার ধুম। কারণ ঈদে সবারই চাই নতুন কাপড়। এ সময়ে পুরুষের প্রথম পছন্দ থাকে পাঞ্জাবি। ঈদের দিন সকালে পাঞ্জাবি পরতে ভালোবাসেন তারা।
পাঞ্জাবির সঙ্গে মিল করে টুপি পরেন অনেকেই। সঙ্গে যোগ হয় সুগন্ধি। যে কারণে ঈদ এলে টুপি এবং আতরের কদর একটু বেশিই বাড়ে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অধিকাংশ মানুষেরই জামা-কাপড় কেনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন বাকি শুধু আতর আর টুপি কেনা। ঈদের কেনা কাটার শেষ সময়ে এসে বরিশাল নগরীর চকবাজার, হেমায়েত উদ্দিন রোড (গির্জ্জা মহল্লা), সাগরদী বাজার, একাধিক মাদ্রাসার সম্মূখে ও বিভিন্ন পোশাক বাজারের ফুটপাতে দোকান সাজিয়ে বসেছে বিক্রেতারা। এসব দোকানে ক্রেতারা ভিড় করছেন আতর-টুপি কিনতে।
নগরীর হেমায়েত উদ্দিন রোডস্থ টুপি ব্যবসায়ী মো. মাহামুদ হোসেন জানান, দেশি আল-ফারুক, ফেমাস ও কবির কোম্পানীর টুপির চাহিদা বেশি ক্রেতাদের। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৪শ’ টাকা, চায়না টুপি ১শ’ টাকা ১৫০ টাকা। তবে মার্কেটে পাকিস্তানী টুপির দাম বেশি হলেও মানসম্মত টুপি দেশি পাতি বসানো টুপি। যার মূল্য ৬০ টাকা ১’শ ৫০ টাকা। তুর্কি সুতার টুপি ৬০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা। শনিবার র্গীজা মহল্লা এলাকায় আতর কিনতে এসেছিলেন ব্যাংকার মো. মিজান।
তিনি বলেন, নতুন জামা-কাপড় কেনা হয়ে গেছে। বাকি ছিল আতর আর টুপি। ঈদের দিন আতর না মাখলে যেন কিছু একটা অপূর্ণ থেকে যায়। সেই জন্য প্রতি বছরই আমি আতর কেনার জন্য এখানে আসি। পাশাপাশি টুপিও কেনা হয়। আমি পাঞ্জাবির সঙ্গে মিল করে টুপি পরতে ভালোবাসি।
অপরদিকে, আতরের দোকানগুলোতেও রয়েছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। জার্মানী, পাকিস্তানী, ভারত, দুবাই ও সৌদী আরব থেকে আমদানী করা আতরের চাহিদা চোখে পড়ার মত। একই বিষয়ে আতর বিক্রেতা মো. জুয়েল বলেন, আমরা পাইকারিভাবে টুপি আনি। রোজার শুরু থেকে দোকানে বেচাকেনা বেশ ভালো। আমার দোকানে প্রায় ৪০ প্রকারের সুগন্ধি আতর ও হরেক রকমের টুপি রয়েছে।
আতরের মধ্যে (সুগন্ধি) ক্রেতারা ছয় ধরনের আতর বেশি ক্রয় করেন। দেশীয় আতঁর প্রতি ড্রাম ৪০ টাকা থেকে ১’শ টাকা, জার্মানীর বেলীর হাসনাহেনা রজনীগন্ধা প্রতি আউন্স ১’শ ৫০ টাকা থেকে ৪’শ টাকা, পাকিস্তানী গুলে লাল, ফেরদাউস জেসমিন নামের আতঁর ক্রেতাদের মাঝে বেশি চাহিদা। এগুলো ৫’শ থেকে ৬’শ টাকা প্রতি আউন্স। জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে দেশী ও বিদেশী।
দেশী জায়নামাজ ২’শ টাকা থেকে ৫’শ টাকার মধ্যে, পাকিস্তানী জায়নামাজ ৪’শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি করছি। এব্যপারে নগরীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল কাদের বলেন, মুসলমানদের কাছে ঈদের নামাজে অন্যতম একটি অনুষঙ্গ টুপি। টুপির রয়েছে আলাদা কদর। আর ঈদ এলে তো কথা নেই। নতুন টুপি কিনতেই হবে। একইসাথে ঈদের সময়ই আতঁরের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। ঈদের দিন মনমাতানো সুরভিতে চারপাশ সুবাসিত করতে আতরের বিকল্প নেই।
এইচকেআর