শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে বরিশালের ঈদ বাজার

রোজার শেষে মূহুর্তে জমে উঠেছে বরিশালের ঈদ বাজার। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বরিশাল বিপণি বিতান ও মার্কেট এলাকা। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় হওয়ায় দম ফেলার ফুসরত নেই বিক্রেতাদের।
শনিবার (৩০ এপ্রিল) বরিশাল নগরীর চকবাজার , সদর রোড ফাতেমা কমপ্লেক্স, সিটি মার্কেট, মহসিন মার্কেট, ফজলুল হক এভিনিউ গীর্জা মহল্লা , কাটপর্টিসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি মার্কেট এলাকা ও বিপণি বিতানগুলোতে ঈদের আমেজ বইছে। সব ধরনের ক্রেতা সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে দোকানপাট। শেষ মূহুর্তে বেচাকেনায় যেন ধুম পড়েছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকেই প্রচণ্ড গরম আর রোদ উপেক্ষা করে মার্কেটমুখী ক্রেতাদের চাপ বাড়তে থাকে। ঈদ কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দুপুরের পর থেকে প্রায় প্রতিটি মার্কেট ও বিপণি বিতান এলাকায় ক্রেতা বাড়তে থাকায় পা ফেলার স্থান নেই।
ব্যবসায়ী এসারত হোসেন বলেন, ‘ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে অনেক। প্রচণ্ড গরমে অনেকেই কেনাকাটা করতে পারেননি। যে কারণে শেষ মুর্হুতেই ক্রেতা সমাগম বেড়ে গেছে। এখন যারা আসছেন তারা খালি হাতে ফিরছেন না, কেনাকাটা করতেই আসছেন।
সাচ্ পয়েন্ট এর সত্ত্বাধিকারী মো. মোস্তফা তালুকদার বলেন, ‘এবারের ঈদ বাজার শুরু থেকেই কলকাতামুখী হওয়ায় বিক্রি হওয়ায় চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু শেষ দিকে এসে বেশ বিক্রি বেড়েছে। এখনও তো চাঁদ রাত বাকি। আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে এ বিক্রিতে।’
ক্রেতারা বলছেন, রোজার শেষে ছুটি পেয়ে কেনাকাটা করতে আসতে হয়েছে। মাসের শুরুতে বেতন বোনাসের পাওয়ার পরই অনেকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন।
পিরোজপুর থেকে বরিশালে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে আসা প্রভাষক রাজু আহমেদ বলেন, ‘রোজার শুরুতে কাজের চাপে ঈদের কেনাকাটা করতে পারিনি। ছুটি পেয়ে বরিশালে এসে কেনাকাটা করছি। মার্কেটে অনেক ভিড়, কিন্তু উপায় নেই। এখন কেনাকাটা না করলে আর সময় পাবনা।’
নগরীর নগর ভবন সংলগ্ন ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করতে আসা ভ্যানচালক রওশন গাজী বলেন, ‘রোজার সারা মাস ভ্যান চালায়ে যা কামাইসি, তাই দিয়া সবার জন্য কিনসি। আমার মা আর বৌ’র জন্য শাড়ি কিনসি। আমার জন্য লুঙ্গি কিনসি আর দুই বাচ্চার জামা কিনসি। আর তো সময় নাই, কাইল দিন বাদেই ঈদ।
ক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারে এজন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি মার্কেটেই পর্যাপ্ত তাদের দায়িত্ব পালন করচ্ছেন।
মার্কেট এলাকায় কত্যর্বরত কনস্টেবল মনির হোসেন বলেন, ‘প্রতিটি বিপণি কেন্দ্রের আশপাশে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত ক্রেতারা কোনো সমস্যা ছাড়াই কেনাকাটা করতে পারবে।’
চকবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, রোজার প্রথম দিকে তেমন বিক্রি না হলেও শেষ সময়ে বিক্রি বেড়েছে। আশা করি চাঁদ রাত পর্যন্ত এমন বিক্রি অব্যাহত থাকবে।
এইচকেআর