বিআইডব্লিউটিএ’র নির্দেশ মানছে না লঞ্চ কর্তৃপক্ষ

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঈদযাত্রায় লঞ্চে মোটরসাইকেল পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে করে লঞ্চের মধ্যে এবং নদী বন্দরে সৃষ্টি হচ্ছে বাড়তি বিড়ম্বনা। চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) ভোর রাতে বরিশাল নদী বন্দরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষ দাবী করেছেন, নির্দেশনা মোতাবেক ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে লঞ্চে মোটরসাইকেল তোলার অনুমতি নেই। কেউ বহন করছেন কিনা তা খোঁজ নিয়ে জানতে হবে।
এমভি মানামী লঞ্চের যাত্রী এনামুল হক জানিয়েছেন, ঢাকার সদরঘাট থেকেই অনায়াসে লঞ্চে করে মোটরসাইকেল নিয়ে আসছে যাত্রীরা। এমনিতেই আমরা গাদাগাদি করে, দাড়িয়ে থেকে এসেছি। দার উপরে লঞ্চে মোটরসাইকেল বহন করায় আরো কষ্ট হয়েছে। লঞ্চ থেকে নামতে গেলেও মোটরসাইকেলের নামানোর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।
আরেক যাত্রী রেহানা আক্তার বলেন, মানামী লঞ্চে দুটি মোটরসাইকেল এনেছে। এছাড়া অন্য লঞ্চগুলোতেও মোটরসাইকেল বহন করেছে। মানুষ যেখানে অবর্ননীয় দুর্ভোগ পেয়ে পা ফেলার জায়গা পায় না সেখানে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ অধিক টাকার লোভে লঞ্চে মোটরসাইকেল তুলছেন। এই নারীর দাবি, বিআইডবিøউটিএ শুধু মুখে বলে এটা করবে ওটা করবে। বাস্তবিক তারা তেমন কিছুই করতে পারে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে স্পেশাল সার্ভিসের সরাসরি লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে বরিশাল নদী বন্দরে নোঙর করেছেন। এছাড়া ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর রুটের ভায়া লঞ্চ রাত একটা থেকেই বরিশাল নদী বন্দরে নোঙর করেছে। অধিকাংশ লঞ্চে মোটরসাইকেল পরিবহন করতে দেখা গেছে।
মোটরসাইকেল পরিবহনের বিষয়ে এমভি মানামী লঞ্চ কর্র্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঈদ যাত্রায় লঞ্চে কোনভাবেই মোটরসাইকেল পরিবহনের অনুমতি নেই। যেসব লঞ্চে মোটরসাইকেল বহন করছে তারা কিভাবে ও কেন করলো তা ভালোভাবে বলতে পারবেন সদরঘাট নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে ঈদের পরে ফিরতি পথে বরিশাল নদী বন্দর থেকে কোন নৌ-যানকে মোটরসাইকেল পরিবহন করতে দেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, ১৮ এপ্রিল লঞ্চ মালিক ও অভ্যান্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ঈদের আগের ৫দিন ও ঈদের পরের পাঁচদিন এই মোট ১০দিন লঞ্চে কোনভাবেই মোটরসাইকেল বহন করা যাবে না। এ সংক্রান্ত লঞ্চ মালিকদের নির্দেশনাও দেয় বিআইডবিøউটিএ। কিন্তু স্পেশাল সার্ভিস শুরুর দিনেই সেই নির্দেশনা লঙ্ঘন করলো লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
এমইউআর