একলাফে লিটারে ৫০ টাকা বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

ঈদকে সামনে রেখে আরেক দফা বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। সরবরাহ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি লিটারে বৃদ্ধি করা হয়েছে ৫০ টাকা। মূল্য বৃদ্ধি করে বৃহস্পতিবার প্রতি লিটার সয়াবিন তেল খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকা। ঈদের আগে হঠাৎ করেই তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পরতে হয়েছে মহাবিপাকে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকির তাগিদ দিয়েছেন ভোক্তারা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। এদিকে দাম বাড়ার খবরে বাজারে থাকা আগের দামের সয়াবিন তেলের বোতল বাড়তি দামে বিক্রি শুরু করেছেন খুচরা বিক্রেতারা। এই বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে এক লিটারের বোতলের ক্ষেত্রে।
জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দাম কার্যকর না করে বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বাজার দ্রুত অস্থির হয়ে উঠছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে প্রতিলিটার ১১০ টাকায় অর্থাৎ ২ লিটার প্যাকেজে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে কিছুটা কমমূল্যে পেতে ভিড় বাড়ছে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রমে। সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবির যে কোন পণ্য এখন সোনার হরিণ। টিসিবির ট্রাক স্পটে আসার আগেই পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষ। এখন মধ্যবিত্তরাও টিসিবির পণ্য কিনছেন। তবে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে প্রতিদিন চুল ছেঁড়াছেঁড়ি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে গেছে। অথচ বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম কমে আসলে এ সঙ্কট তৈরি হতো না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নগরীর রুপাতলী কাঁচাবাজার, চৌমাথা বাজার, নতুন ও পোর্টরোড বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের নির্ধারিত মূল্য ১৭৫ টাকা হলেও তা ২১০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
রুপাতলীর ব্যবসায়ী জুম্মান, খোকন জানান, ঈদের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় ডিলাররা। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয় এসব পণ্য। তাই বেশি দামে কিনে, বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। আজকের বাজারে সয়াবিন তেল নাই, ঈদের আগে সংকট তৈরি করে দিয়েছে। প্রতি বছরই ঈদকে সামনে রেখে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। এখানে আমাদের মত ব্যবসায়ীদের কিছুই করার থাকে না। পোর্টরোড বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী পবিত্র ষ্টোরের সত্ত্বাধিকারী বিকাশ জানান, গত ২ দিন ধরে ভোজ্যতেলের প্রতি মন ৭ হাজার ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২৮ মে ভোজ্যতেলের মুল্য নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ অজুহাতে কোম্পানি তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এ কারনেই বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এ কথায় বাজারে সোয়াবিন তেল এখন পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী বিকাশ।
রুপাতলীতে বাজার করতে আসা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বাজারে সয়াবিন সংকট তৈরি করেছে ব্যবসায়ীরা। ২ লিটার সোয়াবিন তেল আমার কাছে দাম রাখা হয়েছে ৪২০ টাকা, যা গত সপ্তাহের থেকে ৫০ টাকা বেশি। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারে তদারকি বাড়িয়ে অসাধু ব্যবসায়িদের আইনের আওতায় আনলে আগের দামে তেল বিক্রি করবে বলেন তিনি। নগরীর চৌমাথা বাজারে মমিনুল ইসলাম জানান, তার জীবনে সোয়াবিন এর দাম এতটা বৃদ্ধি পাবে এটা নজিরবিহীন। শুধু সয়াবিনের দাম এতটা বৃদ্ধি হওয়ার ঘটনা নয় অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে ।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শাহ শোয়াইব মিয়া বলেন , সরকারি নির্ধারিত মুল্যর চেয়ে ভোক্তাতাদের কাছ থেকে দিগুন মুল্য নেয়া হলে অভিযোগ পেলে ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে । পাশাপাশি বাজারে নজরদারি অব্যহত রয়েছে।
এসএম