কারামুক্ত নারীদের সেলাই মেশিন উপহার দিলেন বিচারকরা

হত্যা মামলায় ২৬ বছর কারাভোগ শেষে মুক্তি পেয়েছেন ফজিলা বেগম। বরিশাল কারাগার থেকে বের হয়ে চোখে দেখছেন শুধু অন্ধকার। জীবিকার স্থায়ী নিশ্চয়তা নেই তার। হতাশাগ্রস্ত ফজিলার পাশে দাঁড়াল সমাজসেবা অধিদপ্তর। জাতীয় লিগ্যাল এইড দিবস উপলক্ষে ফজিলাসহ সদ্য কারামুক্ত তিন নারীকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করতে তাদের দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন।
নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সভা শেষে এ মেশিন তুলে দেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব কেএম রাশেদুজ্জামান রাজা।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে কারাগারে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে এ মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
পুনর্বাসিতরা হলেন- হত্যা মামলায় ২৬ বছর কারাভোগকারী ফজিলা বেগম। পাচারের দায়ে তিন বছর কারাভোগকারী ইমা বেগম ও পারিবারিক মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাশিদা বেগম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ইয়ারব হোসেন, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কবির উদ্দিন প্রামাণিক, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুর রহমান ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনী সহায়তা পেলে তিন নারী মুক্তি পেয়েছেন। এই তিন নারীকে সমিতির পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা বাড়ি ফিরে সম্মানের সঙ্গে কাজ করে বেঁচে থাকতে পারেন।
ফজিলা বেগম জানান, কারামুক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই দুচিন্তায় ছিলাম। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির মাধ্যমে সেলাই শিখেছি। এখন সেলাই মেশিনও দেওয়া হলো। এই মেশিনের মাধ্যমে নিজের দীর্ঘস্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা হলো। সভার আগে নগরীতে একটি বর্ণ্যাঢ্য র্যালি বের হয়। যা নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এসএমএইচ