এবারের ঈদেও যাত্রীদের ভোগাবে পন্টুন সংকট

ঈদ এলেই দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রীদের। পদে পদে ভোগান্তি নিয়েই প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদ্যাপনে ছুটতে হয় তাদের। এর মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের যাত্রীদের ভোগান্তির অন্যতম কারণ বরিশাল নদী বন্দর। পন্টুন সংকটের কারণে বরিশাল নদী বন্দরে যাত্রীদের পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ।
হুরোহুরি করতে গিয়ে লঞ্চ থেকে নদী পড়ার মত দুর্ঘটনাও ঘটছে একাধিকবার।
এবারের ঈদ যাত্রায়ও একই ভোগান্তি আর দুর্ঘটনার শঙ্কা করছেন যাত্রীরা। এমনকি এবার যাত্রীর চাপ পূর্বের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দুর্ঘটনার শঙ্কাও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে পন্টুন সংকট। তবে শঙ্কা আর দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণে আশ্বাস আর শতকর্তা ছাড়া আপাতত বিকল্প কোন উপায় নেই বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম নদী বন্দর বরিশাল। ঢাকার পরে বরিশাল নদী বন্দরটির অবস্থান দ্বিতীয়। ঈদ মৌসুম ছাড়াও এ বন্দর থেকে প্রতিদিন ঢাকা-বরিশালসহ ভায়া রুটে অন্তত ১৬ থেকে ১৮টি বিলাশবহুল লঞ্চ চলাচল করে। তবে আধুনিক নদী বন্দর হিসেবে পরিচিত বরিশাল নদী বন্দরে পন্টুন সংকট দীর্ঘ দিনের। যা পদে পদে পীড়া দিচ্ছে লঞ্চের যাত্রীদের। বিশেষ করে ঈদ মৌসুমে নদী বন্দরে পন্টুন সংকট অপমৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বরিশাল নদী বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ‘আধুনিক এই নদী বন্দরে মোট পন্টুনের সংখ্যা ৬টি। প্রতিটির আয়োজন ১২০ ফুট করে মোট ৭২০ ফুট। এর মধ্যে দ্বিতল অর্থাৎ ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ বার্দিংয়ের জন্য ৩টি এবং বাকি তিনটি একতলা লঞ্চের জন্য।
নদী বন্দরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ‘১২০ ফুটের একটি পন্টুনে এক সঙ্গে দুটি লঞ্চ সুন্দরভাবে বার্দিং করা সম্ভব। সে হিসেবে তিনটি পন্টুনে এক সঙ্গে ৬টি লঞ্চ বার্দিং করা যায়। সর্বোচ্চ হলে ৭টি পর্যন্ত লঞ্চ এক সঙ্গে বার্দিং হয়ে থাকে বরিশাল নদী বন্দরে। তার ওপর এবার ঈদে ভায়াসহ প্রায় ২৮টি লঞ্চ চলাচল করবে বরিশাল নদী বন্দর হয়েছে।
বিলাসবহুল এমভি সুন্দরবন লঞ্চের মাস্টার মজিবর রহমান বলেন, নৌবন্দরের তিনটি পন্টুনে নিয়মিত সাতটি লঞ্চই একসাথে ভিড়তে কষ্ট হয়ে যায়। তার মধ্যে ঈদের সময় চলাচল করা ১৭ থেকে ১৮টি লঞ্চ একযোগে কিভাবে ঘাটে ভিড়বে সে নিয়ে প্রতি বছরই আমাদের চিন্তিত হতে হয়। তার ওপর পন্টুনের একপাশে গত ছয়মাস ধরে একটি অকেজো ড্রেজার পরে আছে। সেটা এখনো সরানো হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় পন্টুন সংকটের কারণে একটি লঞ্চের পেছনে আরেকটি লঞ্চ বার্দিং করতে হয়। যাত্রীদের ওঠা-নামা করতে এক লঞ্চ থেকে আরেক লঞ্চে যেতে হয়। এতে দুর্ঘটনাও ঘটছে। তাড়াহুরো করতে গিয়ে কেউ কেউ লঞ্চ থেকে পড়েও যাচ্ছে। আবার অনেক সময় একটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঘাট ত্যাগের পরে অপর অঞ্চ ঘাটে বার্দিং করে যাত্রী তুলছে। যেটা আরেক ভোগান্তি।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘পন্টুন নিয়ে ভোগান্তি নতুন নয়। ঈদ আসলেই পন্টুন সংকট দূর করার দাবি জোড়ালো হয়। কিন্তু এরপর আবার থেমে যায়। আমরা বরাবরই বরিশাল নদী বন্দরে পন্টুন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। তার বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আশ্বাসের বাস্তবায়ন করছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তায় ১২ দফা দাবি তুলে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মরকলিপি প্রদান করেছে বরিশাল নৌ-যাত্রী ঐক্য পরিষদ। ওই ১২ দফার মধ্যেও বরিশাল নদী বন্দরে পন্টুন সম্প্রসারণের দাবিটি ছিলো অন্যতম।
এ প্রসঙ্গে, বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মুহা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বরিশাল নদী বন্দর আধুনিকায়ন এবং পন্টুন সংখ্যা বাড়ানোর প্রকল্পটি অনেক বড় একটি প্রকল্প। এটিতে অর্থ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক। এ প্রকল্পের টেন্ডার এরি মধ্যে হয়েছে। তবে বরাদ্দ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকে একটু জটিলতা রয়েছে। এ কারণে কাজ শুরু হচ্ছে না। অর্থ বরাদ্দ হলে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
অপরদিকে, বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেছেন, ‘পন্টুন সংকটের বিষয়টি আমি অবগত। তবে নদী বন্দর উন্নয়নে প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নই। বিষয়টি পূর্বে জানা থাকলে আলোচনা করা যেতো। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এসএম