ঢাকা রবিবার, ১০ মে ২০২৬

Motobad news

আগৈলঝাড়ায় পাত্র বাড়ি শহীদদের নামের তালিকাটি আজও হয়নি গেজেটভুক্ত

আগৈলঝাড়ায় পাত্র বাড়ি শহীদদের নামের তালিকাটি আজও হয়নি গেজেটভুক্ত
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাজিহার (রাংতা) গ্রামের ঐতিহাসিক কেতনার বিল পাত্র বাড়ি ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধকালিন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বোরচিত গণহত্যায় অগনিত মানুষ নিহত হয়। শহীদদের স্মরনে সরকারি ভাবে এখানে তৈরি করা হয়েছে স্মৃতিসৌধ। ওই স্মৃতিসৌধে ৬২ জন শহীদদের নামের তালিকা রয়েছে। যার মধ্যে ২০ নম্বর তালিকায় রয়েছে কাশিনাথ পাত্রর নাম। কিন্তু ওই সকল শহীদদের নামের তালিকা হয়নি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত।

এব্যাপারে নিহত কাশিনাথ পাত্রর ছেলে রাজেন্দ্র নাথ পাত্র বলেন, ১৯৭১ সালে আমার ১৭ বছর। আগৈলঝাড়ার রাজিহার গ্রামের পাত্র বাড়ি আমাদের বাড়ি। মহান স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় ১৬ মে রোববার পাকহানাদার বাহিনীর গুলিতে অগনিত মানুষ নিহত হয় তার ভিতরে আমার পিতা কাশিনাথ পাত্র নিহত হয়। শহীদদের স্মরনে সরকারি ভাবে এখানে তৈরি করা হয়েছে স্মৃতিসৌধ সেখানে একটি শহীদদের নামের তালিকা রয়েছে। সেখানে ২০ নম্বরে আমার পিতা কাশিনাথ পাত্রর নাম লেখা রয়েছে, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের শহীদদের তালিকায় বা গেজেটে নেই তাদের নাম। আমি যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে থেকে তাদের সহযোগিতা করেছি। আমি আমার নামটি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবদেন করেছি। সরকারের কাছে দাবি আমার পিতার নামটি যেনো শহীদদের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এসময় ধীরেন্দ্র নাথ ঢালী ও দেবেন্দ্র নাথ পাত্তরের স্ত্রী মায়া পাত্তর বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের এই পাত্তর বাড়িতে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলো। পাকিস্তানী মিলেটারিরা আমাদের বাড়ির সকল ঘরে আগুন লাগিয়ে পুরে ফেলে। তখনকার ধানের গোলার ধান পুড়ে যায়। আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া মানুষ গুলোকে পাকিস্তানীরা গুলি করে মেরে ফেলে এবং তাদের লাশ ডোবায় ফেলে দেয়। অনেকের লাশ গাছে ঝুলে থাকে। মিলেটারিরা চলে যাবার পরে মানুষ দুর থেকে মানুষ এসে গর্ত করে এক একটি গর্তে ১৫ থেকে ২০টি লাশ মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে।  আমরা এখনও মাটি খুড়তে গেলে সে সময়ের হাড় পাই। আমরা আগে অনেক হাড় পেয়েছি তা ফেলে দিয়েছি, আমার তোর আর এর গুরুত্ব বুঝি নাই। 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন