টিপ পরা সংস্কৃতির ওপর আঘাত সহ্য করা হবে না : পঙ্কজ নাথ এমপি

টিপ পরা নিয়ে কটুক্তিকারীদের রুখে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ। টিপ পরা আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে উল্লেখ করে রোববার (৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্যাডে এক ববিৃতি দেন তিনি।
বিবৃতিতে সাংসদ বলেন, টিপ পরা সংস্কৃতির ওপর আঘাত সহ্য করা হবে না। যারা টিপ পরাকে প্রকাশ্যে কটুক্তি করার দুঃসাহস দেখায়, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার দুঃসাহস দেখায় তাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরােধ করা সময়ের দাবি।
পঙ্কজ নাথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, শাড়ী চুরি, টিপ, কাজল, কুমকুম চিরন্তন বাঙালী নারীর অনন্য ভূষণ। যেটি বারংবার উজ্জলভাবে উঠে এসেছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত চলচ্চিত্রে। টিপ বাঙালী নারীর মর্যাদার প্রতীক। এটি ভালবাসা, সম্মান, গৌরব, অহংকারের চিহ্ন। টিপ ছাড়া বাঙালী নারীর সাজের পূর্ণতা আসে না। শুধু বাঙালী নারী নয় আধুনিক ফ্যাশনেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে টিপ ব্যবহার অনেকটাই অপরিহার্য। এটি নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতা। এর ওপর আঘাত মানে চিরন্তন বাঙালী সংস্কৃতির ওপর আঘাত, মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপড় আঘাত, নারীর স্বাধীনতার ওপড় আঘাত।
সংসদ সদস্য যার যার অবস্থান থেকে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাঙালী সংস্কৃতির ওপর আঘাত রুখে দেওয়ার আহবান জানান।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে কলেজে যাচ্ছিলেন তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার। এ সময় হুট করে পাশ থেকে মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা একজন- ‘টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন তাকে। ওই ব্যক্তির গায়ে ছিল পুলিশের পোশাক।
এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে উল্টো প্রভাষকের পায়ের ওপর দিয়ে বাইক চালিয়ে চলে যান ওই ব্যক্তি। এরপর শেরেবাংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ড. লতা সমাদ্দার।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। আলোচনা গড়িয়েছে জাতীয় সংসদেও। এমনকি পুরুষরাও টিপ পরে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
এসএমএইচ