ঢাকা শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

Motobad news

শ্রমিক ‍ইউনিয়ন দখল নিতে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাংচুর- ‍আহত ৭

শ্রমিক ‍ইউনিয়ন দখল নিতে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাংচুর- ‍আহত ৭
ভাংচুরকৃত শ্রমিক কার্যালয় ও ‍আহত ‍একাংশের সভাপতি সুলতান মাহমুদ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশাল জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন দখল নিয়ে ফের পাল্টা পাল্টি হামলা এবং ভাচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ও নির্বাহী সভাপতিসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ‘রূপাতলী বাস্ট্যান্ড কেন্দ্রীক শ্রমিক ইউনিয়ন দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একাংশের সভাপতি সুলতান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সুমন মোল্লা ‍এবং অপর অংশের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবু, বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপনের মধ্যে বিরোধ চলে ‍আসছে।

‍এ নিয়ে প্রায়শই হামলা, পাল্টা হামলা, বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান এবং ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। গত শনিবার বিকালেও শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবুসহ তাদের লোকেরা রূপাতলী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল চলাকালে অপর গ্রুপের লাইন সম্পাদক সেলিম সিকদারের ওপর হামলা করেন পরিমল ও বাবু গ্রুপ।

এদিকে, শনিবারের ঘটনার রেশ না কাটতেই রোববার বেলা ১২টার দিকে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি সুলতান মাহামুদসহ অন্তত ৫ জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এসময় ভাংচুর করা হয়েছে সুলতান মাহমুদের শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে পরিমল ও বাবু গ্রুপের লোকেদের ওপর সুলতান মাহমুদের লোকেরা পাল্টা হামলা করে। এসময় দুই শ্রমিককে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে জখম করে বলে দাবি আহতদের।

প্রথম ঘটনার বর্ননা দিয়ে একাংশের সভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘বেলা ১২টার দিকে আমি রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মোবারেক আলী মোল্লা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় থেকে নিচে নামছিলাম। হঠাৎ করেই ছাত্রলীগ নেতা রাজিব, সাজ্জাদ, মান্না এবং যুবলীগ নেতা বাবুসহ ৩০টি ওয়ার্ড ‍আওয়ামী লীগ ‍এবং মহানগর ‍আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার ওপর হামলা করে। এসময় আমাকে তারা মারতে মারতে টেনে হিচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করে। এমনকি আমার পরনের প্যান্ট পর্যন্ত খুলে ফেলে তারা।

তিনি দাবি করেন, ‘ঘটনার সময় শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী সভাপতি রফিকুল ইসলাম মানিক, তার ভাজিতা শামীম, নাসির এবং বিপ্লবসহ অন্তব্য ৫-৬ জন বাধা দিতে আসলে তাদেরকেও হাতুড়ি পেটা করেছে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার সময় পুলিশও ছিলো। তারা বাধা দিতে আসেনি। তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধু দেখেছে। আমি এবং আমার লোকেরা আহত হয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছি। এই ঘটনা শ্রমিক ইউনিয়ন দখল নিয়ে ঘটেছে। পুলিশ নিরপেক্ষ নন, তাই এ নিয়ে আমি কোন মামলা করতে চাচ্ছি না।

অপরদিকে, সুলতান মাহমুদের ওপর হামলার ঘটনার প্রায় দেড় ঘন্টার মাথায় অপর গ্রুপের লোকেদের ওপর পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সুলতান মাহমুদ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সুমন মোল্লার নেতৃত্বে এই হামলা হয় বলে অভিযোগ আহতদের। এসময় দুজনকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করা হয়। এরা হলেন- মালিক সমিতির কলম্যান কালাম এবং অফিস ক্লার্ক বিপু।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সুমন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকেদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষরা এখন নাটক সাজিয়েছে। তারা আমাদের মামলায় ফাঁসানোর জন্য এখন পাল্টা হামলার নাটক করছে। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

অপরদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা কোন প্রকার হামলা বা ভাংচুর করিনি। বরং আমাদের লোকেদের ওপর সুলতান মাহামুদের লোকেরা সন্ত্রাসী হামলা করেছে। হামলায় আমাদের লোকজন আহতও হয়েছে। আমরা এই ঘটনার বিচার দাবি করছি।

রূপাতলীতে পাল্টা পাল্টি হামলা এবং ভাংচুরের বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিমুল করিম বলেন, ‘রূপাতলীতে দুই পক্ষের মধ্যে একটু উত্তেজনা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কি নিয়ে ঘটনা ঘটেছে সেটা এখনো জানা যায়নি। তবে পুলিশের পক্ষপাতিত্ব এবং নিরব ভূমিকায় থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, ‘আমরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।


কেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন