আগৈলঝাড়ায় সরকারি খাল দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সরকারি খাল দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসন এ কার্যক্রম বন্ধে একাধিকবার পদক্ষেপ নিলেও দুর্গম অঞ্চলে দখলের কর্মযজ্ঞ চলে আসছে।
আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার কৃষক পরিবারকে সেচ সংকটের মুখে ফেলে নিজেদের স্বার্থের জন্য সরকারি খাল দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয়রা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের মাগুরা বাজারে সরকারি খালের উপর একপাশ দখল করে স্থানীয় ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে মহিদুল হাওলাদার দোকান ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মহিদুল হাওলাদার সরকারি খালের উপর প্রায় ৫০ হাত লম্বা দোকান ঘর নির্মানের কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় সজিব সরদার জানান, আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার কৃষক পরিবারকে সেচ সংকটের মুখে ফেলে নিজেদের স্বার্থের জন্য সরকারি খাল দখল করে যারা পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের যে কোন মূল্যে প্রতিহত করতে হবে।
নাম না প্রকাশের শর্তে মাগুরা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সরকারি খাল দখল করে এর আগেও কয়েকজন দোকান ঘর নির্মান করেছিল। আবার নতুন করে মহিদুল হাওলাদার সরকারি খাল দখল করে প্রায় ৫০ হাত কাঠের দোকান ঘরের কাজ করছেন।
রাজিহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদার জানান, আমার অত্র ইউনিয়নের মধ্যে যারা সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তাদেরকে নিষেধ করে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপরও যদি আমার ইউনিয়নে কেউ যদি অবৈধ ভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় জসিম উদ্দিন, মিজান আকন, সুবাস রায়, রাজিব ফকিরসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি খাল রক্ষার দাবী এবং খালে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আরমান তালুকদার জানান, এক্ষেত্রে দখলের খবর পাওয়া মাত্রই দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হলে সরকারি সম্পত্তি দখল অনেকটাই কমে আসবে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খাল দখলকারী মহিদুল হাওলাদার জানান, স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে দোকান ঘর নির্মান করছি।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দোকান ঘর অপসারনের ব্যবস্থা করা হবে। দখলদাররা যতোই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এইচকেআর