ঢাকা শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

Motobad news

উজিরপুরে হতদরিদ্রের ঘর এখন মহিলা ইউপি সদস্যর খাবার ঘর

উজিরপুরে হতদরিদ্রের ঘর এখন মহিলা ইউপি সদস্যর খাবার ঘর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নে ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড মহিলা ইউপি সদস্য সীমা বেগমের বসতঘরে ব্যবহৃত হচ্ছে সরকারি টিন। এছাড়া ভিজিডি কার্ডের চাল, নগদ অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতিবন্ধীর ঘর নেয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ করায় অসহায় পরিবারের উপর হামলা চালানোর বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার ধামুরা ২নং ওয়ার্ডের মোঃ মন্নান মোল্লার স্ত্রী শিপোন বেগম অভিযোগ করে বলেন তাকে সরকারি ১ বান্ডেল টিন দেয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য সীমা বেগম নগদ ৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর উজিরপুর উপজেলা থেকে শিপোন বেগম তার নামের সরকারি টিন বাড়ীতে নিয়ে যায়।  সেখান থেকে সুচতুর মহিলা ইউপি সদস্য ভূল বুঝিয়ে টিন নিয়ে তার বসতঘরের চাঁলায় লাগিয়েছে এবং দেড় বছর ধরে শিপোন বেগমের নামের ভিজিডির চাল আত্মসাত করে নিজেই ভক্ষন করছেন।

এদিকে ওই এলাকার হতদরিদ্র মোঃ সালাউদ্দিন মোল্লার স্ত্রী প্রতিবন্ধী আম্বিয়া বেগমকে সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করে। টাকা না দিতে পাড়ায় মহিলা ইউপি সদস্য সীমা বেগম নিজের নামে সরকারি টিনসেট ঘর নেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই মহিলা ইউপি সদস্য’র ঘরের চালায় সরকারি টিন ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি বসতঘরের পিছনে সরকারি ঘর নির্মিত রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিপোন বেগম, আম্বিয়া বেগম ২২ মার্চ দুপুর ২টায় ইউপি সদস্য’র কাছে টিন ও টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে মহিলা ইউপি সদস্য’র ছেলে সোহান মোল্লা দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ কয়েকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে তাদেরকে তাড়া করে। এদিকে নিজের অপকর্ম ঢাকতে ইউপি সদস্য সীমা বেগম ও তার স্বামী সেলিম মোল্লা নাটক সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এ ঘ্টনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সীমা বেগম জানান, শিপোন বেগমের নামে প্রাপ্য সরকারি টিন ও ৩ হাজার টাকা আমার প্রয়োজনে নিয়েছি এবং আমার নিজের নামেই হতদরিদ্রের একটি ঘর নিয়েছি। বর্তমানে এটি খাবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করছি।

তিনি আরো স্বীকার করে বলেন, শিপোন বেগমের নামে ভিজিডি কার্ড করার সময় ২জনে ভাগাভাগি করে নেয়ার চুক্তিতেই করা হয়েছে। বর্তমানে ভিজিডি কার্ডটি আমার হাতে রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অয়ন সাহা জানান, সরকারি টিন মেম্বরের ঘরে কিভাবে এসেছে তা আমার জানা নেই। তবে তদন্ত করে বিষয়টি দেখা হবে। উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নির্বাহী অফিসার ফারিহা তানজিন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, কোন মেম্বরের পক্ষেই এটা করা উচিত নয়। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারও বিষয়টি তদন্ত করা উচিত।

 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন