ঢাকা শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

Motobad news

বিসিসি’র উচ্ছেদ অভিযানে বাস শ্রমিকদের বাধা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বিসিসি’র উচ্ছেদ অভিযানে বাস শ্রমিকদের বাধা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ছবি: প্রতীকি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সিটি কর্পোরেশন এবং বাস শ্রমিকদের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে রূপাতলী এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রূপাতলীতে ঘটনা স্থানীয় একটি পক্ষের ইন্দোনে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশের নেতারা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘সোমবার সকালে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে চান সিটি কর্পোরেশনের আরআই শাখা। এসময় সেখানকার লিটন হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির অবৈধভাবে নির্মিত দোকানঘর উচ্ছেদ করেন তারা। তখন রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের সোহাগ নামের একজন শ্রমিক উচ্ছেদ অভিযান তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এতে বাধা দেন সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিকরা।

এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিকরা মারধর করে সোহাগকে। পরে বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি দাবিদার সুলতান মাহমুদ এর অনুসারী শ্রমিকরা সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিকদের ওপর হামলা করে। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন শাখার ওয়ার্ড সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত থাকলেও উচ্ছেদ অভিযান করেছে আরআই শাখা।

তিনি বলেন, ‘লিটন নামের এক ব্যক্তি রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমি দখল করে অবৈধভাবে বিশাল একটি দোকান দিয়েছে। ওই দোকানটি উচ্ছেদ করতে যায় সিটি কর্পোরেশন। তখন উচ্ছেদের কাজে অংশ নেয়া শ্রমিকদের বাধা এবং এক পর্যায় আমাদের আটকে রাখে রূপাতলীর কিছু শ্রমিক। পরে আমরা সেখান থেকে চলে আসি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে রূপাতলী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি দাবিদার সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘রূপাতলীতে অনেক অবৈধ স্থাপনা এবং দোকান রয়েছে। সেখান থেকে চাঁদা নেয় জাকির মোল্লা। সেগুলো না ভেঙে একটি দোকান উচ্ছেদ করতে যায় তারা। কারণ আমাদের শ্রমিকরা ওই দোকানে বসে এবং আড্ডা দেয়। এটাই অপরাধ।

তিনি দাবি করে বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিকদের ওপর কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। আমি যদটুকু জেনেছি তাতে সোহাগ নামের ওই শ্রমিকের কোন দোষ নেই। উচ্ছেদের ঘটনা সোহাগ তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলো। এ জন্য তাকে মারধর করে তুলে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিকরা। তখন রূপাতলীর অন্যান্য শ্রমিকরা তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে একটু হাতাহাতি হয়েছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদুর রহমান জাকির বলেন, ‘সোমবার রূপাতলী এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের কোন উচ্ছেদ অভিযান ছিলো কিনা আমার জানা নেই।

এ প্রসঙ্গে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিমুল করিম বলেন, ‘রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে একটু উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিলো। তবে সেটা বড় কোন বিষয় নয়। আমাদের পুলিশ রূপাতলী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলো। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।


কেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন