বরিশালে মার্চের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় ৭০ ভাগ মানুষ

করোনা বিস্তার রোধে বরিশাল অঞ্চলে ইপিআই কেন্দ্র সহ বিভিন্নস্থানে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম আরো জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন। এখনো শহরের চেয়ে গ্রামেগঞ্জে ভ্যাকসিন গ্রহনকারীর সংখ্যা কম হলেও ইতোমধ্যে বিভাগের ৬ জেলায় প্রায় ৪৫ লাখ নারী-পুরুষকে করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ প্রদান সম্পন্ন হয়েছে।
একইভাবে ২য় ডোজ সম্পন্ন করেছেন ৩২ লাখেরও বেশী মানুষ। পাশাপাশি ১২ বছর ও তদোর্ধ প্রায় ৪ লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন প্রদান সম্পন্ন করেছে বিভিন্ন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি ইতোমধ্যে অর্ধ লক্ষাধীক ছাত্রÑছাত্রীকে করোনার দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন প্রদানও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ হুমায়ুন শাহিন। ইতোমধ্যে ১২ বছর ও তদোর্ধ ৪০ ভাগেরও বেশী মানুষকে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান নিয়েও সাধারন মানুষের অভিযোগ এখন প্রচুর। খোদ মহানগরীতে ভ্যাকসিন কার্যক্রম নিয়ে নগরবাসীর অভিযোগ ক্রমশ জোড়াল হচ্ছে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে যে মাত্র ৭টি কেন্দ্রে ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে, তার বেশীরভাগেই নারীদের জন্য আলাদা কক্ষ নেই। বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে রোববারও অনেক নারী বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন বলে গনমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন। নগরীতে টিকাদান কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধিরও দাবী করেছেন নগরবাসী।
এদিকে চলতি মাসের শুরু থেকেই বরিশাল মহানগরী সহ দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্রই সংক্রমন উদ্বেগজনক পর্যায়ে বাড়লেও নুন্যতম কোন স্বাস্থ্যবিধি অনুসরনের তোয়াক্কা করছেন না কেউ। বিগত দুটি বছরে করোনার সংক্রমন শুরু হয় মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। কিন্তু এবার জানুয়ারী শুরু থেকেই পরিস্থিতি আগের দুটি মাসের তুলনায় খারাপের দিকে যাচ্ছে।
যদিও বরিশাল এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের ‘সবুজ অঞ্চল’র আওতাভ’ক্ত, তবুও পরিস্থিতির অবনতি রোধে এখনই স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরনের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন। কিন্তু এ অঞ্চলে নুন্যতম মাস্ক ব্যবহারে পর্যন্ত কারো কোন আগ্রহ লক্ষনীয় নয়। বাস,লঞ্চ সহ সব ধরনের গন পরিবহনেও নুন্যতম স্বাস্থ্যবিধি অনুপস্থিত। এমনকি এসব বিষেয়ে পুলিশ, প্রশাসন সহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোরও কোন হেলদোল নেই। উঠতি ও তরুন বয়সীরা মাস্ক পরিধান না করাকেই তাদের কৃতিত্ব বলে মনে করছে।
চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে বরিশাল অঞ্চলে ১০১ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হলেও ১০ থেকে ১৫ জানুূয়ারী আক্রান্তের সংখ্যাটা ৬৩। নতুন এ শনাক্তের মধ্যেও মহানগরী সহ বরিশাল জেলাই শীর্ষে রয়েছে। রোববার দুপুরের পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায়ও বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় আরো ২০ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে মহানগরীতে ৭ জন সহ বরিশাল জেলায়ই আক্রান্তের সংখ্যা ৯। এ নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা পজিটিভ শনাক্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৭৪ জনে। মৃত্যু হয়েছে ৬৭৯ জনের। আর আক্রান্ত ও মৃতের এ সংখ্যার মধ্যেও এখনো শীর্ষে বরিশাল মহানগরী। গোটা বিভাগের মাত্র ৬% জনসংখ্যার এ নগরীতে এপর্যন্ত সরকারীভাবে করোনা শনাক্তের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। মারা গেছেন ১০২ জন। আর মহানগরী সহ জেলায় আক্রান্ত ১৮ হাজার ৪শ জনের মধ্যে মারা গেছেন ২৩০ জন।
পটুয়াখালীতে গত ২৪ ঘন্টায় আরো দুজন সহ আক্রান্তের সংখ্যাটা ৬ হাজার ২৪৬। মৃত্যু হয়েছে ১০৯ জনের। ভোলাতেও ২৪ ঘন্টায় ১জন সহ মোট আক্রান্ত ৬ হাজার ৮৭৫ জনের মধ্যে মারা গেছেন ৯১ জন। পিরোজপুরে গত ২৪ ঘন্টায় ৬জন সহ মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৩১৮ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৮৩ জনের। বরগুনাতেও গত ২৪ ঘন্টায় নতুনকরে দুজন সহ মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৬৭। মারা গেছেন ৯২ জন। আর ঝালকাঠীতে গত ২৪ ঘন্টায় নুত কেউ আক্রান্ত না হলেও এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৬৬ জন আক্রান্তের মধ্যে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালকের মতে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলার ১২ বছর ও তদোর্ধ ৭০ ভাগ মানুষকে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনার লক্ষে কাজ করছেন তারা। আর এ লক্ষে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরের বাইরের ইপিআই কেন্দ্রেগুলোতেও করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামীতে তা আরো জোরদার করার কথাও জানান তিনি। তার মতে, চলতি মাসের শুরু থেকে দেশের অন্য এলাকাগুলোর মত দক্ষিণাঞ্চলেও করোনা সংক্রমন বাড়লেও তা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে যায়নি। তিনি সবাইকে দ্রুত ভ্যাকসিন গ্রহনের পাশাপাশি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলারও তাগিদ দেন।
এইচকেআর