ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

Motobad news

লঞ্চে আগুন, বড় ছেলেকে খুঁজছেন মা

লঞ্চে আগুন, বড় ছেলেকে খুঁজছেন মা
স্বপ্ননিল
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

রাতে লঞ্চের টয়লেটে যায় আমার বড় বাবা। এরপরই লঞ্চে আগুন লাগার কথা জানতে পারি। এ সময় ছোট ছেলেকে রেখে দৌঁড়ে লঞ্চের নিচ তলায় যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু লোকজনের ভিড়ে কহন যে লঞ্চ হইতে বাইরে নামি নিজেই কইতে পারি না। কয়েক ঘণ্টা পর ছোট বাবাকে পাইছি। কিন্তু আমার বড় বাবারে আর পাইলাম না। আপনারা আমার বড় বাবারে দেখছেন?

এইভাবেই কান্না জড়ানো কণ্ঠে ১৪ বছর বয়সী ছেলে স্বপ্নিলকে খুঁজে না পেয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দতে বসে আর্তনাদ করতে দেখা গেছে গিতা রানী নামে এক মাকে।


বরগুনা বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা গিতা রানী। তার স্বামী সঞ্জিব চন্দ্র হালদার ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। থাকেন ঢাকার উত্তরায়। গিতা রানী তার দুই সন্তান স্বপ্নিল চন্দ্র হালদার ও ৬ বছর বয়সী প্রত্যয়কে নিয়ে ঢাকা থেকে ‘এমভি অভিযান-১০’ লঞ্চে করে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তার বড় ছেলে স্বপ্নিল ঢাকা উত্তরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র।

গিতা রানী বলেন, রাতে আমার বড় ছেলে স্বপ্নিল লঞ্চের টয়লেটে যায়। এর ৫ মিনিট পরই লঞ্চে আগুন লাগার খবর জানতে পারি। এ সময় যাত্রীরা আত্মরক্ষায় এদিক-সেদিক ছুটতে থাকে। আমি আমার বড় ছেলের ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। বড় ছেলের চিন্তায় ছোট ছেলেকে ভুলে দৌড়ে লঞ্চের নিচ তলায় যাওয়ার চেষ্টা করি। যাত্রীদের ধাক্কা-ধাক্কিতে কখন যে লঞ্চ থেকে তীরে নেমে যাই তা বলতে পারব না। তখন মনে পড়ে আমার ছোট ছেলে প্রত্যয় সঙ্গে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ছোট ছেলেকে পেলেও বড় ছেলে স্বপ্নিলকে এখনও খুঁজে পাইনি।

তিনি বলেন, ভোর থেকেই সুগন্ধা নদীর আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। সেখানে না পেয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটেছি। কিন্তু কোথাও ওকে খুঁজে পাইনি। পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাপসাতালে এসেছি।

বরগুনাগামী ‘এমভি অভিযান-১০’ লঞ্চের আগুনের ঘটনায় শুধু স্বপ্নিলই নয় এখনও নিখোঁজ রয়েছে অগণিত মানুষ। নিখোঁজদের আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলে তাদের স্বজনদের খুঁজে না পেয়ে এভাবেই এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই আবার নিজের প্রিয়জনকে খুঁজতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করছেন। তাদের আর্তনাদে হাসপাতালটিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন